ব্যাটার ও বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৪ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। প্রথম ম্যাচ ৩২ রানে হেরেছিল টাইগাররা। দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল তাওহিদ হৃদয়ের দল।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান তোলেন তারা।
১৩তম ওভারে বাংলাদেশের রান ১শতে নেন সাইফ ও তানজিদ। এ নিয়ে সপ্তমবার টি-টোয়েন্টিতে একশ স্পর্শ করল বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। এসময় তানজিদ ৩৫ বলে ৫২ এবং সাইফ ৩৭ বলে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
৩৩ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। ক্যাচ দিয়ে পাঁচবার জীবন পেয়ে ৪২ বলে টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম অর্ধশতক তুলে নেন সাইফ।
১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ১২০ রানে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ের পেসার রির্চাড এনগারাভা। বোল্ড হবার আগে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন সাইফ। ব্যক্তিগত ৮, ১৭, ১৯, ৩৭ ও ৪৬ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান সাইফ।
পরের ওভারে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হন তানজিদ। ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে ৮ চার ও ১ ছক্কা মারেন তানজিদ।
দলীয় ১২২ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ১ ও নুরুল হাসান ৪ রানে ফেরেন। ১৭তম ওভারে ১৪১ রানে পঞ্চম উইকেট পতনে বড় সংগ্রহের পথ কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের।
কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ১৯ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন ইয়াসির আলি ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
ইনিংসের শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রাড ইভান্সের প্রথম চার ডেলিভারিতে চার ছক্কা মারেন সাইফুদ্দিন।
ওভার থেকে ২৮ রান পায় বাংলাদেশ। দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে চার বলে চার ছক্কা হাঁকানোর কীর্তি গড়েন সাইফুদ্দিন।
৪ ছক্কায় ১০ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন সাইফুদ্দিন। ৩ বাউন্ডারি ও ১ ওভার বাউন্ডারিতে ১২ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন ইয়াসির।
জিম্বাবুয়ে এনগারাভা ও ইভান্স ২টি করে উইকেট নেন।
জিম্বাবুয়েকে ১৮৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১৫ রান খরচ করে জিম্বাবুয়ে ওপেনার তাদিওয়ানামে মারুমানিকে(৪) শিকার করেন টাইগার স্পিনার মাহেদি হাসান।
পরের ওভারে জিম্বাবুয়ের আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ১১ রানে বোল্ড করেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান মাহেদি। তিন নম্বরে নামা ডিওন মায়ার্সকে ৪ রানে বোল্ড করেন তিনি। এতে ২১ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ উইকেটে ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ে ফেরান মিল্টন শুম্বা ও অধিনায়ক রাজা। ৩ রানের ব্যবধানে পরপর দুই ওভারে শুম্বা ও রাজাকে শিকার করেন বাংলাদেশ স্পিনার রিশাদ হোসেন। শুম্বা ১৯ ও রাজা ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১২ বলে ২৮ রান করেন।
৬৮ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের বোলারদের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটার। ফলে ২ বল বাকী থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
শেষ দিকে রায়ান বার্লের ১৯ বলে ২৯ এবং ইভান্সের ১৪ বলে ২৫ রানে হারের ব্যবধান কমে স্বাগতিকদের।
২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন বাংলাদেশের রিশাদ। মাহেদি ৩টি, রানা-সাইফুদ্দিন ও সাইফ ১টি করে উইকেট নেন।
ব্যাট হাতে ১০ বলে ৩১ রান ও বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন বাংলাদেশের সাইফুদ্দিন।
আগামী ১৯ জুলাই একই ভেন্যুতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে।

