ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সি-গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। এনিয়ে তিন ম্যাচে চার গোল করলেন ভিনি। অন্যদিকে এই পরাজয়ে স্কটল্যান্ডের সামনে আরও একবাও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা তৈরী হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ভিনিসিয়াস স্কটল্যান্ডের রক্ষনাত্মক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে মিয়ামিতে ব্রাজিলকে শুরুতেই লিড এনে দেন। এরপর প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে আরও এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে কখনই ব্রাজিলকে বিপদে ফেলতে পারেনি। মাথিয়াস কুনহার দ্বিতীয়ার্ধের গোলে পাঁচ কারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয়। ৭৬ মিনিটে কুনহার পরিবর্তে নেইমারকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রায় আড়াই বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে কাল মাঠে নেমেছেন নেইমার।
বিশ্বকাপের শুরুতে কার্লো আনচেলত্তির দল প্রকৃত অর্থেই শিরোপা জয়ের দাবীদার কিনা এনিয়ে শঙ্কা থাকলেও গ্রুপ পর্বের পারফরমেন্সে তার থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে সেলেসাওরা। আগামী ২৯ জুন হিউস্টোনে শেষ ৩২’র ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল। ঐ ম্যাচে তাদেও প্রতিপক্ষ গ্রুপ-এফ রানার্সআপ। দলটি হতে পারে নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেন।
মরক্কোর সাথে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচে ও হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোলের পর ভিনিসিয়াস টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল পেয়েছেন। এর মাধ্যমে ২০০২ সালে রোনাল্ডো ও রিভালডোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি গ্রুপ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন ভিনি।
চার গোল নিয়ে লিওনেল মেসি (৫), আর্লিং হালান্ড (৪) ও কিলিয়ান এমবাপ্পের (৪) সালে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সামিল হলেন।
এর আগে আটটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে স্কটল্যান্ড। কিন্তু কখনই গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরুতে পারেনি। এবারও সেই পথেই হাঁটছে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম পুরনো এই দলটি।
গতকাল আটালান্টায় হাইতিকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের থেকে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে মরক্কো গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউটে উঠেছে। তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড।
সাত মিনিটে নিজের বক্সের ভেতরে বল দখলে রাখতে গিয়ে স্কট ম্যাককেনি অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি দেখান এবং রায়ান তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ইনজুরিতে থাকা রাফিনিয়ার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া বোর্নমাউথের তরুন এই ফরোয়ার্ড বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়াসের কাছে বাড়িয়ে দেন। ভিনি গোললক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে গোল করেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে স্কটল্যান্ড একই ধরনের ভুল থেকে আবারও গোল খওয়ার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে ভিনিসিযয়স বল কেড়ে নিয়ে গোলও করেন। তবে এবার মেক্সিকান রেফারি ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায় এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিনিসিয়াস হেন্ড্রির পায়ে স্পর্শ করেছিলেন।
তবুও ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল আসতে বেশি সময় লাগেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়াস ব্রুনো গিমারায়েসের ক্রস থেকে হেড করে জালে বল জড়ান। বিরতির ঠিক আগে রায়ানের শট রুখে দেন গান।
আর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়াার পরপরই গোলরক্ষক ভিনিসিয়াসকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন। ৬০ মিনিটে গিমারায়েসের পাস থেকে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড কুনহা। ব্রাজিল চাইলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত।
পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে স্কটল্যান্ডের জন্য একটি সান্তনাসূচক গোল গুররুত্বপূর্ণ হতে পারত, কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন দুবারই স্কট ম্যাকটোমিনের প্রচেষ্টা রুখে দেন।
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ৭৬তম মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। অক্টোবর ২০২৩-এর পর প্রথমবারের মতো সেলেসাও দলে ফিরে এসে তিনি দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে সাড়া দেন।
এটি ছিল বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের পাঁচ দেখার মধ্যে চতুর্থ জয়। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯৭৪ সালের গোলশূন্য ড্র।

