প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সাইপ্রাস যাওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সাক্ষাৎ করেন।
আজ (বুধবার) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রেস উইং আরও জানায়, লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনএফআইসিওয়াইপি)-এর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরবের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি বিভিন্ন দেশে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান। পরের বছর ওই দেশে একই দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ (অব.) আবদুস সালাম।
এছাড়াও মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লে. জেনারেল (অব.) আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায় ও মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান পশ্চিম সাহারায় এই দায়িত্বে আছেন।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে একজন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন।
পশ্চিম সাহারাতে দায়িত্বরত মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসানের পাশাপাশি লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে যোগ দিলে ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা হবে দু’জন।
এটি অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের নতুন এই দায়িত্ব সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
উল্লেখ্য, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের দীর্ঘসময় ধরে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। এটি ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন (গ্রিন লাইন নামে পরিচিত) বজায় রাখা এবং কার্যত বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা।
এই মিশনের জন্য ১ হাজার ৯০ জন সদস্য অনুমোদিত রয়েছেন। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মিশনের জনবল ছিল ৭২৭ জন সামরিক সদস্য, ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ জন বেসামরিক কর্মী।
জাতিসংঘের এই মিশনে অংশগ্রহণকারী ১৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া এবং যুক্তরাজ্য।
মিনহাজুল আলম ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’ এ নেতৃত্ব দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সম্পর্কিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
চাকরিজীবনে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সেনা কর্মকর্তা ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবেও কর্মরত ছিলেন তিনি। মিনহাজুল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
জাতিসংঘের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিযুক্তির আগে মিনহাজুল আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি ছিলেন।
কক্সবাজার এলাকার দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

