রাউজানের পাঁচখাইন দরগাহ ডা. মোহাম্মদ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় নবীনদের স্বাগত, শিক্ষকদের বিদায়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন ও প্রীতিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বহুমাত্রিক আয়োজনে মধ্যদিয়ে এক আবেগঘন, বর্ণিল ও শিক্ষামূলক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের আলহাজ্ব ছালে আহমেদ অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন ছিল এক বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি।

জাতীয় সংগীতের সুরে অনুষ্ঠানের সূচনা যেন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনের প্রতীক হয়ে ওঠে। ষষ্ঠ শ্রেণীর নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়কে স্বাগত জানানো হয়, যা ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার এক আশাব্যঞ্জক প্রতিশ্রুতি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রত্না রাণী বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানুরাগী, সমাজ হিতৈষী মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী এফ.সি.এ।
উদ্বোধক ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয় শিক্ষক শামশুল আলম পাটোয়ারীকে। যার দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবা স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক আক্তার হোসেন, প্রিয়া দাশ, রাজেশ বড়ুয়া ও আবু তালেব রোমানের যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ শিক্ষক অমল চন্দ্র দাশ, মো. আলী, আবু তাহের, দিবস কুমার বড়ুয়া, আবুল কালাম ও সাইফুল ইসলাম। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। বিদায়ী শিক্ষককে উদ্দেশ করে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া ওসমান শাওন মানপত্র পাঠ করলে পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে। একইভাবে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করেন জাহেদা আক্তার এবং বক্তব্য রাখেন মায়েশা ছিদ্দিকা, যেখানে স্মৃতিচারণ, কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের এক মিশ্র আবহ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যাহ্ন বিরতিতে অতিথি ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজ এক অনন্য মিলনক্ষেত্রে রূপ নেয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বিকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী ধর্মীয় শিক্ষক শামসুল আলম পাটোয়ারীকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ৩৫ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আশীর্বাদ স্বরূপ শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং একাডেমিক ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ছিল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দিনব্যাপী এ আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক সেতুবন্ধন। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলে, গল্প ও আড্ডায় মেতে উঠে। দিনের শেষে যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখনও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়ে যায় স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোর অনুরণন। হাসি, আনন্দ, অশ্রু ও কৃতজ্ঞতার মিশেলে গড়ে ওঠা এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের জীবনে এক অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, এ আয়োজন প্রমাণ করে, বিদ্যালয় কেবল জ্ঞানার্জনের স্থান নয়; এটি আবেগ, সম্পর্ক ও মূল্যবোধের এক চিরন্তন আশ্রয়স্থল।
