খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় প্রজেক্ট তৈরির নামে পাহাড় কেটে ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তনের অভিযোগে সক্রিয় রয়েছে একটি অসাধু চক্র। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। রবিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার ৩ নম্বর যোগ্যছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি স্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন প্রায় ১৫ একর টিলাভূমিতে প্রকল্প নির্মাণের নামে তিনটি উঁচু পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে লেক ও সড়ক নির্মাণের কাজ চালাচ্ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও স্কেভেটর চালকরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাহাড় কাটার ভয়াবহতা দেখে হতবাক হন ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা স্কেভেটর দুটি স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়লাল চাকমা ও গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, চলতি বছরেই অন্তত আটটি পাহাড় কেটে মাটি লুটের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে কিংবা নির্জন এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড চললেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের নীরবতায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরা বলেন, “পাহাড়, মাটি ও বালু রক্ষায় শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গত তিন মাসে বালু ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে চারটি মামলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটা চলতে থাকলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ভূমিধসসহ নানা ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

