বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় জমি বিক্রেতা পক্ষের হামলায় ক্রেতা পক্ষের অন্ত:সত্বা নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাট্টাখাইয়া নুরুল ইসলাম মেম্বার পাড়ায় হামলার ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন- জমি ক্রেতা মোহাং হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ হারুন (২৮). পুত্রবধূ মর্জিনা বেগম (৩৫), মনোয়ারা বেগম (২০), তানজিনা আক্তার (২৪) ও ঝুমু আক্তার (২৩), স্ত্রী শাহীনা বেগম (৫৫)। জমি বিক্রেতা আবু ছৈয়দরা (বদাইযা) এ হামলা করেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জমি ক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ হারুন বাদি হয়ে মৃত হাসান আলীর ছেলে আবু ছৈয়দকে (বদাইয়া) প্রধান বিবাদী করে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে অন্য বিবাদীরা হলেন- মৃত মো. কালুর ছেলে মো. ইসলাম (৬০), মো. ইসলামের বড় ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৮), ছোট ছেলে ইমামুল ইসলাম (২৪) ও মেয়ে পারভীন আক্তার (৩৭্র), আবু ছৈয়দের মেয়ে সারজিনা রেশমি আক্তার (২৮) ও সারজিনা আক্তার (২১)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা আবু ছৈয়দের (বদাইয়া) কাছ থেকে ২০০৭ সালে ২৮৭নং তৈন মৌজার ১৯নং হোল্ডিং থেকে স্টাম্প মূলে ১৫হাজার টাকায় ১০শতক ও সাদা কাগজে লিখিতভাবে ৩৬হাজার ৭৫০ টাকায় ২৫শতক দ্বিতীয় শ্রেণীর জমি ক্রয় করেন মোহাম্মদ হারুনের বাবা মোহাং হাসেম। সেই থেকে ক্রয়কৃত জমিতে ২টি বসতঘর, একটি পুকুরসহ ফলদ-বনজ বাগান সৃজন করে ভোগ করে আসছেন। জমি ক্রয়ের সময় শর্ত ছিল, টাকা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে বায়নানামা রেজিষ্ট্রি করে দিবেন বিক্রেতা আবু ছৈয়দ (বদাইয়া)। কিন্তু টাকা পরিশোধের পরও অদ্যাবদি ক্রেতা মোহাং হাসেম স্টাম্প ও সাদা কাগাজমূলে বিক্রিত জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে বললে আবূ ছৈয়দ (বদাইয়া) প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে আজ দিবেন, কাল দিবেন বলে কাল ক্ষেপন করেন। এমনকি জমি রেজিষ্ট্রি করতে হলে আরো ৬ লাখ টাকা দাবী করেন, বিক্রেতা আবু ছৈয়দকে (বদাইয়া)। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ হলে বায়নানামা রেজিষ্ট্রির পর ২ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন। কিন্তু এ সিদ্ধান্তকেও উপেক্ষা করে আবু ছৈয়দরা (বদাইয়া) ফের তালবাহানা শুরু করেন। বায়নানামা রেজিষ্ট্রির আগেই সব টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে ক্রেতা মোহাং হাসেমকে চাপ প্রয়োগ করেন বিক্রেতা আবু ছৈয়দ (বদাইয়া)। ক্রেতা মোহাং হাসেম জমি রেজিষ্ট্রির আগে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিক্রেতা আবু ছৈয়দরা (বদাইয়া) ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে বিক্রেতা আবু ছৈয়দ (বদাইয়া) ও তার শশুর মো. ইসলাম (৬০)সহ ৬-৭জন পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী দুপুর পৌনে ২টার দিকে মোহাং হাসেমের বাড়িতে দা, লাঠি ও লোহার রড় নিয়ে হামলা করেন। এতে মোহাং হাসেমের পরিবারের অন্ত:সত্বা নারীসহ ৬ জন আহত হন।
এ সময় হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাৎক্ষনিক জাতীয় অনলাইন সেবা ৯৯৯ নম্বরে রিং দিলে আলীকদম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আবু ছৈয়দের (বদাইয়া) হাতে থাকা দা জব্দ করেন। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। প্রতিপক্ষের আঘাতে আহত চার মাসের অন্ত:সত্বা মনোয়ারা বেগম ও মর্জিনা আক্তারের অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদেরকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে অন্ত:স্বত্বা মনোয়ারা বেগমের গর্ভের সন্তান ও মর্জিনা বেগমের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান চিকিৎসকেরা। পরে এ ঘটনায় মোহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হারুন। তিনি বলেন, বরং উল্টো আবু ছৈয়দরা (বদাইয়া) বিক্রিত জমি রেজিষ্ট্রি করে দিবেনা, আবারও হামলা মামলাসহ হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছেন। হামলার আঘাতে আমার এক ভাবীর চোখ ও আরেক ভাবীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে জমি ক্রেতা মোহাং হাসেম জানায়, ক্রয়কৃত জমি যথা নিয়মে রেজিষ্ট্রি কাজে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি বিক্রেতা পক্ষ কর্তৃক ক্রেতা পরিবারের উপর হামলার বিচার চান মোহাং হাসেমরা। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট আবু ছৈযদের (বদাইয়া) নেতৃত্বে মোহাং হাসেমের পরিবারের উপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনায়ও বান্দরবান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলী-২) মামলা করেন, ভুক্তভোগী মোহাং হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ হারুন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আবু ছৈয়দ (বদাইয়া) বলেন, মোহাং হাসেমের কাছে জমি বিক্রি করেছি ঠিক, কিন্তু ক্রেতা মোহাং হাসেম জমি বিক্রি বাবদ ধার্যকৃত ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মামলা হামলাসহ নানা হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন। তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তও মানেন না। তাদের লোকবল বেশি, আমি একা। তিনি আরো জানান, জমির টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করলে আমি তাদেরকে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মতে ২০ শতক জমি বায়নানামা রেজিষ্ট্রি করে দিবো।
এ বিষয়ে আলীকদম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত বড়ুয়া বলেন, উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম মেম্বার পাড়ার হামলার ঘটনায় মোহাম্মদ হারুন নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

