ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮৪টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ৫৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভুজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব-হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হেয়াকো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের পশ্চিম শৈলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আইনশৃঙ্খলারক্ষায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট -৯জন,জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট -২ জন,র্যাব – ১৬ জন,বিজিবি – ৫ প্লাটুন,১০০ জন,সেনাবাহিনী – ১৫০ জন,ব্যাটালিয়ন আনসার – ২০ জন দায়িত্বে রয়েছেন। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি সেনা, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে ভুজপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “অতীতের নির্বাচনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেনা, পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স সেখানে নিয়মিত টহল দেবে। আশা করি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবো।” ফটিকছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, বিগত নির্বাচনগুলোর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করেই এই নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপি মনোনীত আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ),এগার দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নূরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম (ট্রাক), জনতা পার্টির গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা)। স্বতন্ত্র প্রার্থী,আহমদ কবির করিম(ফুটবল) ও জিন্নাত আরা (হরিণ)।
এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের পার্থী রবিউল হাসান তানজিম নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ‘ফুটবল’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহম্মদ কবির করিম। গত ৭ ফেব্রুয়ারী এক বৈঠকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর,জনতার দল মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী (কলম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার (হরিণ) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তিন প্রার্থী ঐক্যের ঘোষণা দেন। ৭৭৩ বর্গকিলোমিটারের এ উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ১৯৭ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন একজন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪০টি। ৯০০টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২০ জানুয়ারি। পরদিন ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেন। পরবর্তীতে ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

