চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুশিয়ারি উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে কনটেইনার ও কার্গো ওঠানো-নামানোর কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই কর্মবিরতি চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনাকারী এই সমুদ্রবন্দর।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং সাবেক বন্দর সিবিএ নেতাদের ডাকে এই কর্মসূচি চলছে। আগামীকালও তারা আট ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতির অপারেটররা কাজ বন্ধ রাখায় পণ্য ওঠানো-নামানো ও পরিবহন কার্যক্রম থেমে আছে। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালের তিনটি জেটিতে নোঙর করা তিনটি জাহাজের পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় আমরা আমাদের নিয়োজিত জেটি শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে পারছি না। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অপারেটররাও জিসিবিতে কাজ করছেন না।’
শনিবার সকালে অন্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বন্দরে কার্গো ও কনটেইনারবাহী যানবাহনের প্রবেশ কম দেখা গেছে।
এদিকে, কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে বন্দর প্রশাসনিক ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) কর্মবিরতির ব্যাপারে সতর্ক করে নোটিশ জারি করে। এতে বলা হয়, এনসিটি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে হুঁশিয়ার করা হয়।

