ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেছেন;ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হলো অটোমেটেড ভূমিসেবা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকেরা এখন সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত সেবা পাচ্ছেন। ভূমি একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান। ভূমির যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সহজলভ্য ভূমিসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। জনগণ যেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভূমিসেবা পেতে পার এর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি প্রশাসন, দক্ষ জনবল এবং জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সকল কর্মকান্ডে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সহজে ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে হবে।আজ রাজধানীর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কম্পিটার ল্যাবে ‘মানোন্নীত অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে রংপুর বিভাগের ৪ টি জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১টি জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের ToT (রংপুর, দিনাজপুর,গাইবান্ধা,কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়া) প্রশিক্ষণে’ সিনিয়র সচিব এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) থেকে কম্পিউটার অপারেটর পদমর্যাদার ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ গ্রহণ করেন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প।সিনিয়র সচিব বলেন; বর্তমানে বাংলাদেশে ভূমিসেবা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল রূপ নিয়েছে।নাগরিগণ এখন ঘড়ে বসে অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। “ভূমি সেবা এখন নাগরিকের দোরগোড়ায়”এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। এছাড়াও নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র থেকে সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোতি দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। ভূমিসেবা প্রদানের জন্য শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সেবাদাতাদের আন্তরিকতা। ভূমি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নাগরিক চার্টার বাস্তবায়ন এবং সেবা মনোভাব বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে সিনিয়র সচিব বলেন;এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ভূমি কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যাতে তারা নিজ নিজ দপ্তরে গিয়ে অন্য সহকর্মীদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। ফলে প্রশিক্ষণের জ্ঞান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনের সব স্তরে অটোমেটেড সেবার সুষ্ঠু প্রয়োগ সম্ভব হয়। তারা শুধু প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা অর্জন করেন না, বরং ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ প্রদানের কৌশলও আয়ত্ত করেন। ফলে অটোমেটেড ভূমিসেবা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হয়, নাগরিক ভোগান্তি কমে, এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া দক্ষ প্রশিক্ষকগণ ভবিষ্যতের ভূমি প্রশাসনের চালিকাশক্তি। তাদের মাধ্যমে অটোমেটেড ভূমিসেবার ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান নিশ্চিত হবে। এই উদ্যোগই বাংলাদেশের ভূমি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে।সাধারণ জনগণেরও উচিত ভূমি সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা এবং অনলাইন সেবা ব্যবহারে দক্ষ হওয়া। নাগরিক যদি নিজে সচেতন থাকে, তবে অনিয়ম ও হয়রানি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। সঠিক ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে হলে সেবাদাতার সততা এবং জনগণের অংশগ্রহণ এর সমন্বয় অপরিহার্য। তাহলে “স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ভূমিসেবা” বাস্তবে রূপ নেবে,এবং জনগণ পাবে প্রকৃত ভূমিসেবার সুফল বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো:এমদাদুল হক চৌধুরী।

