ফকির চানের বাবা-দাদার পেশা ছিল সাগরে মাছ ধরা। তিনিও সেই পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। সন্দ্বীপ চ্যানেলে মাছ কমে যাওয়ায় তাঁর সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুই শতক জমির ওপর টিনশেডের ভাঙাচোরা ঘরে স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। ঘরের চালে ফুটো, বৃষ্টির পানি ঠেকাতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা। নিজে পড়াশোনা না জানলেও তার বড় মেয়ে স্নাতক পাশ, মেজো মেয়ে অনার্সে, সেজো মেয়ে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত, ছোট দুই মেয়ে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। অভাব অনটনে থাকলে কোনদিন অন্যায় পথে পা বাড়াননি। ফকির চাঁন দাশ সরকারের সকল নিষিদ্ধ সময়গুলোতে সকল আইন মেনে চলা, অবৈধ জাল ব্যবহার না করা, যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাছ আহরণ এবং মাছ আহরন কালিন সময়ে বর্ষা মৌসুমে ৩-৪ বার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তারই ফল প্রতিশ্রুতিতে মৎস্য খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রোঞ্জ পদক পুরস্কার লাভ করেছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মৎস্যজীবি ফকির চাঁন দাশ।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এর হাত থেকে উক্ত পুরস্কার গ্রহণ করেন ফকির চাঁদ দাশ। সীতাকুণ্ডের ইতিহাসে এ প্রথম কোন ব্যক্তি রাস্ট্রীয় পদকে ভূষিত হলেন। সারাদেশের মধ্যে ১৬ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়। তারমধ্য এ পুরস্কার অর্জন করেন সীতাকুণ্ড উপজেলার জেলে ফকির চাঁন দাশ। উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের মৃত হর বাঁশী দাশের ছেলে ফকির চাঁদ দাশ। প্রতিবেশী বিপ্লব জলদাস বলেন, ফকির চান কখনো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। সাগরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন এবং অন্যদেরও মানতে উৎসাহ দেন। অভাব অনটনের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করেছেন তিনি। সরকারের দেওয়া এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য। ফকির চাঁদ দাশের মেয়ে কনিকা দাশ বলেন, আমাদের কোন ভাই নেই। আমরা ৫ বোন। বাবার আদরে সবাই বড় হয়েছি। অভাব অনটনের মধ্যেও সবাইকে শিক্ষিত করেছেন। বাবার সততার ফল স্বরুপ আজ আমাদের কুঁড়েঘরে এসেছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। বাবার জন্য গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ফকির চাঁন দাশের এ অর্জন এটা শুধু তার একার নয়। এটা পুরো সীতাকুণ্ডবাসীর অর্জন। তিনি সারাদেশের ১৬ জনের মধ্যে একজন প্রধান উপদেষ্টা হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তার এ অর্জনে আমরাও গর্বিত।

