চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক নারী সহকারী শিক্ষকের প্রতি হুমকি, অশালীন আচরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের গাউছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার সম্প্রতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এয়াকুব দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তারের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছেন। ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং অপমান করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসে এক বহিরাগতকে এনে সেলিনা আক্তারকে হেনস্তা করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এসবের প্রতিবাদ জানালে প্রধান শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছি। প্রধান শিক্ষক বিভিন্নভাবে আমার কাজের পরিবেশ নষ্ট করছেন। প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. এয়াকুব বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।” উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মুরাদ চৌধুরী অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি এর জবাব দিয়েছেন। এখন বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিয়মমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে গত ১৩ জুলাই ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রদের সামনে উপজেলার দক্ষিণ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হালিমা নাসরীনকে তাঁর ভাশুর মো. হুমায়ুন কবির মারধর করেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ভাসুরকে আটক করেছে পুলিশ।
এসব ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এমন বিরোধ শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাঁরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।