চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উপকূলীয় হারামিয়া ও মগধরা ইউনিয়নের শত শত মৎস্যজীবী বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে ভুগছেন। সম্প্রতি সন্দ্বীপ চ্যানেলের ফেরিঘাট এলাকায় মাছ ধরার জাল ও খুঁটি বয়া অপসারণের নির্দেশনার কারণে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোর আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক জেলে পরিবার। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল নির্বিঘ্ন করতে গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে প্রায় দুই কিলোমিটার জলসীমা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের জাল ও বয়া অপসারণ করতে হবে।
বিশেষ করে ফেরিঘাট সংলগ্ন ৫০০ মিটারের মধ্যে জাল নিষিদ্ধ ঘোষণায় হারামিয়া ও মগধরা ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৎস্যজীবীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলেদের অভিযোগ, ফেরিঘাটের নিরাপত্তার অজুহাতে কেবল মগধরা উপকূলীয় এলাকায় জাল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা তারা বৈষম্যমূলক ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজারো জেলে পরিবার চরম অভাব-অনটনে নিপতিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ও প্রতিকারে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় হারামিয়া কাছিয়াপাড় এলাকা থেকে শতাধিক জেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমার বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। জেলেদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেন বিধান দাসের নেতৃত্বে, বিএনপি নেতা ফসিউল আলম রহিম ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল করিমের সার্বিক সহযোগিতায়। স্মারকলিপিতে জেলেরা ফেরিঘাট এলাকার সীমারেখা মানবিক বিবেচনায় পুনর্নির্ধারণ এবং জাল অপসারণের সময়সীমা অন্তত এক মাসে বাড়ানোর দাবি জানান।
তারা উল্লেখ করেন, বংশপরম্পরায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের এই জলসীমায় তারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এবং এই পেশার উপরই নির্ভর করছে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফসিউল আলম রহিম, ফজলুল করিম, বাবুল দাস, স্বপন দাস, কালা দাস, অনিল দাস, রাজধন দাস, হরি মোহন দাস, মনোরঞ্জন দাস, গোবিন্দ দাস, প্রভাত দাসসহ উপকূলীয় জলদাস সম্প্রদায়ের আরও অনেক প্রতিনিধি। ইউএনও মংচিংনু মারমা জেলেদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ও মানবিক সমাধানের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে মৎস্যজীবীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে জেলেদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করেও ফেরিঘাট পরিচালনা করা সম্ভব।
