চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে চলছে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান। ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’—এ স্লোগানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে গত ২৮ জুলাই শুরু হওয়া এই মেলায় স্থান পেয়েছে দেশি-বিদেশি দুই হাজার ৬৫ প্রজাতির গাছের চারা। রয়েছে ২১০ প্রজাতির ক্যাকটাসও। মেলায় ফলদ, বনজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী ও বিরল প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটলেও বৃষ্টিপাত ও প্রচারসংকটের কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম, ফলে বিক্রিও হচ্ছে কম।

সম্প্রতি মেলায় ঘুরে দেখা যাচ্ছে, নার্সারিগুলোর স্টলগুলোতে সারি সারি চারা সাজিয়ে রাখা হলেও ক্রেতার আনাগোনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। স্টল মালিকদের অভিযোগ, মেলার শুরু থেকেই প্রচারের ঘাটতি এবং টানা বর্ষণে লোকসমাগম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চিটাগং নার্সারির স্টলে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ফল ধরা ১৩ বছর বয়সী লংগান গাছ, যা ‘গোল লিচু’ নামেও পরিচিত। একই নার্সারিতে হরীতকী, আমলকী, বহেরা, মাল্টা, কমলাসহ নানা ফলের গাছ রয়েছে, দাম ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প সামগ্রী ও নানান ধরনের মৃৎপাত্র নিয়ে মেলায় স্টল দিয়েছেন ‘বাগান বিলাস’-এর অন্যতম কর্ণধার নুসরাত সুলতানা মিম । তার এ ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল আয়োজন মেলায় আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। তবে বৃষ্টি কমলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। ব্যবসায়িক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে তিনি মেলার সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে “গ্রিন বি” নামের একটি প্রতিষ্ঠান এনেছে বিভিন্ন আকৃতির দেশি-বিদেশি ক্যাকটাস ও এয়ার প্ল্যান্ট। মেক্সিকোর গোল্ডেন ব্যারেল, ম্যামেলারিয়া হামিয়ানাস প্রজাতির ক্যাকটাসগুলো দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। একেকটির দাম ২০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
‘গ্রিন বি’র কর্ণধার অর্ক আকিব বলেন, “অনলাইনে আমরা নিয়মিত গাছ বিক্রি করি। মেলায়ও ভালো সাড়া পাওয়ার আশা ছিল, তবে বৃষ্টির কারণে অনেকে আসতে পারছেন না।” তাঁর স্টলে ইয়েমেনের এরাবিকাম হালক নামে একটি ফুলফোটা বনসাইও রয়েছে, যার দাম তিন হাজার টাকা। এছাড়া সাধারণ বনসাই ও হাউস প্ল্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। বাহাদুর নার্সারি, ফতেয়াবাদ নার্সারি, বাংলাদেশ নার্সারি, সবুজ মেলা, কসমো নার্সারি—এমন আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা নিয়ে অংশ নিয়েছে মেলায়। তবে মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের অনেকে দাম বেশি মনে করে ফিরে যাচ্ছেন। বাকলিয়া থেকে আসা গৃহিণী আফরোজা বলেন, “ছাদবাগানের জন্য কিছু গাছ কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দাম বেশি মনে হওয়ায় কয়েকটি ফুলের চারা নিয়েই ফিরে যাচ্ছি।”
পুষ্প নার্সারির এক কর্মী জানান, “শুক্র-শনিবার ছুটির দিনেও বিক্রি আশানুরূপ হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা অনেক কম।” মেলায় থাকা তথ্যকেন্দ্রে বন বিভাগের হামিদুর রশীদ, সালেহ আহমেদ ও আবদুল মালেক এর সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তারা জানান, মেলার সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করছেন, এখানের পরিবেশ খুবই ভালো। আগ্রহ নিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন এবং নানা প্রজাতির চারা কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম কায়চার বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে মেলায় লোকজন কম এসেছে, তবে আবহাওয়া ঠিক হলে আগ্রহ বাড়বে। বন বিভাগ প্রতিবছরই এ আয়োজনের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিয়ে আসছে।” আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বৃক্ষমেলা। আয়োজকরা আশা করছেন, শেষের দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জমে উঠবে মেলা এবং চারা বিক্রিও গতি পাবে।

