আগামী ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এ ঘোষণা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তিনি আগামী পহেলা অক্টোবর এই সম্মেলন হবে বলে ঘোষণা দেন। সম্মেলনের তারিখ শুনে উপস্থিত নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা হাততালি দিয়ে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন।
মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। এর অন্তত দুই মাস আগে আমরা সারাদেশে সব জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে চাই। এর আলোকে আমি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করছি। আগামী পহেলা অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে। এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর বাকি সব ওয়ার্ড, ইউনিট ও থানার সম্মেলন শেষ করতে হবে।’
‘আশা করছি, সম্মেলনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নতুন আঙ্গিকে আসবে। নতুনভাবে শক্তিশালী হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে,’ বলেন হানিফ।
দলের নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের সঙ্গে মোনাফেকি করবেন না, পদ-বাণিজ্য করবেন না। যোগ্য লোককে মাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে আসতে হবে। সুবিধাভোগীরা সবসময় আশেপাশে ঘুরবে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।’
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সবশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৬ সালে। সেই সম্মেলনে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি এবং কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দানু মারা যান। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর নগর আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন আ জ ম নাছির উদ্দীন। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যান মহিউদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৩ সালে গঠিত তিন বছরের কমিটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে, সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন চট্টগ্রাম নগরীতে ইউনিট পর্যায়ে সম্মেলন নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি জুন মাসের মধ্যে করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ১৫ জুনের মধ্যে ইউনিট আওয়ামী লীগের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে। ৩০ জুনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নগরের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন শেষ করতে হবে।’
আওয়ামী লীগকে মুসলিম লীগে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে স্বপন বলেন, ‘যাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আনুগত্য রয়েছে, তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা উন্মুক্ত। ছোট পরিবার সুখী পরিবার করে বড় দল চলতে পারে না। আগতদের যারা কাউয়া-হাইব্রিড বলে বিতাড়িত করতে চায়, তারা দলকে সাধারণ মানুষ থেকে দূরে নিতে চায়। কেন শুধু নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সারাজীবন দল চালিয়ে আওয়ামী লীগকে মুসলিম লীগে পরিণত করব?’
‘অধ্যাপক থেকে সুইপার সবাইকে আনতে হবে। যদি সবার ভোট চাইতে পারি, তাহলে কেন তাকে দলের সদস্য পদ দেবো না? আমি আওয়ামী লীগকে ক্ষয়িষ্ণু দল হিসেবে দেখতে চাই না। জমিদারি প্রথা বন্ধ করুন ও অহংকার বন্ধ করুন। আপনার ঘরে এসে পায়ে ধরে সদস্য হবে— এই চর্চা বন্ধ করুন। পাড়া ও মহল্লায় মাইকিং করে সদস্য সংগ্রহ করতে হবে,’ বলেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে বলে মন্তব্য করে বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু হওয়াতে সারাদেশের মানুষ খুশি। সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণার পর সবখানে সাজ সাজ রব। বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, পদ্মা সেতু হবে না। তিনি এখনও বেঁচে আছেন। আল্লাহ তার হায়াত দান করুক। তিনি নিশ্চয়ই শুনেছেন পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। কাজ শেষ। শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনের বিষয়ে জাপানের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোরেলের সমীক্ষা চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লেনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নেতাকর্মীরা খারাপ আচরণ করলে শেখ হাসিনার এসব উন্নয়ন ¤øান হয়ে যাবে। সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে তারা খারাপ খবরের শিরোনাম হয়। চট্টগ্রাম মহানগরে অন্তঃকলহে অনেকের প্রদীপ নিভে গেছে। এটি আমরা দেখতে চাই না। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা এতো এতো উন্নয়ন করেছেন। সবকিছু বৃথা যাবে, ¤øান হয়ে যাবে যদি না আচরণের মাধ্যমে মানুষকে খুশি করা না যায়। তাই আমাদের আচরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনার উন্নয়নকে তুলে ধরতে হবে। আগামীতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গঠন করতে হবে। আওয়ামী লীগ থেকে দূষিত রক্ত দূর করে দিতে হবে।’

