চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে লোকালয় থেকে বিশাল এক অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এটি বনে অবমুক্ত করা হয়। বুধবার (৯ জুলাই) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের আমানবাজার এলাকা থেকে এটি উদ্ধার হয়। সাপটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ফুট এবং বার্মিজ পাইতন প্রজাতির। যা বৃহদাকার, শক্তিশালী ও অ-বিষধর সাপ। এটি বিশেষভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনজঙ্গলে দেখা মেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাশবর্তী বারোমাসিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অজগরটি লোকালয়ে এসে এক জেলের মাছের জালে আটকা পড়ে। পরে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বারমাসিয়া বন বিট কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন এসে সাপটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন। হাজারীখিল রেঞ্জ কর্মকর্তা শিকদার আতিকুর রহমান জানান, ‘প্রবল বর্ষণে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিশালাকারের অজগরটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসে। সাপের জন্য বনের অভয়ারণ্য এলাকা নিরাপদ। সেখানে পোকা-মাকড়সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করতে এরা সাচ্ছন্দ্য পায়। বনের পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খেয়ে চলতে পারে; তাই এটি উদ্ধার করে বারমাসিয়া বনের গহীনে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করেছি। যেটির দৈর্ঘ সাড়ে ৭ ফুট এবং এটি বার্মিজ পাইতন প্রজাতির। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনবিভাগ সবসময় তৎপর বলেও জানান তিনি।’ এদিকে, সম্প্রতি ৩৩ টি অজগর ছানা উপজেলার হাজারী খিল বন্যপ্রাণী অভয়ারন্যে অবমুক্ত করায় উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে কর্তৃপক্ষের হটকারী সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেখেছেন। বাসিন্দাদের দাবি- বর্ষায় এসব লোকালয়ে এসে জনমনে উৎকন্ঠা বাড়াবে। তার অংশ হিসেবে সাপ লোকালয়ে আসছে। বারমাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো.আজিজুর রহমান ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এমনিতে ৩৩ অজগর ছানা সম্প্রতি বনে অবমুক্ত করে আমাদেরকে উৎকন্ঠায় রেখেছে। কর্তৃপক্ষ এটি মোটেই উচিত করেননি। তারমধ্যে এখন আবার বর্ষা নামার শুরুতেই গ্রামেগঞ্জে বড় অজগরও দেখা মিলছে। এটি বড়ই উৎকন্ঠা আর উদ্বেগের।’ ভিন্নমত পোষণ করেছেন প্রাণি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন যাঁরা। তারা বলেন প্রাণীদের অনকূল আবাসস্থল হলো গহীন বন-জঙ্গল। তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দে বাস করেন। অবাধ বিচরণের জন্য তারা নিরাপদ নিরাপত্তা পেলে পরিবেশে অনন্য ভূমিকা এবং ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
ফটিকছড়ি পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সোলায়মান আকাশ বলেন, ‘প্রাণীদের আবাসস্থল কোনভাবেই অনিরাপদ করা যাবে না। এমনটি হলে তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে এসে মানুষের ক্ষতি করতেই পারে। ফলে তাদের নিরাপদ পরিবেশে থাকতে দিন। এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ।’

