খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়, ফটিকছড়ি ও জোরারগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের চোরাচালান এক সময় নিয়মিত ঘটনা হলেও এখন তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সীমান্ত নিরাপত্তায় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (রামগড় জোন) নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মাদক প্রবেশ এবং চোরাচালান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এক সময় এ সীমান্তপথেই নিয়মিত প্রবেশ করত ভারতীয় ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, চোলাই মদ ও ব্র্যান্ডেড বিদেশি মদ। এসব বহন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করত স্থানীয় কিছু চক্র। কিশোর-তরুণদের একটি বড় অংশ এতে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এপথে মাদক বহন করত তারা। তবে বিজিবির ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে এখন তাদের অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে। ৪৩, বিজিবির অধীন রামগড়ের লাচারীপাড়া, কাঁশিবাড়ি, বল্টুরাম, জগন্নাথপাড়া, সোনাইপুল, আনন্দপাড়া, ফেনীরকুল; ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার, বাঘমারা, বড়বিল, যতিরচর, রহুল আমিনের চর, হেয়াকো এবং জোরারগঞ্জ উপজেলার বালুটিলা, আমতলা, কয়লামুখসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এক সময় মাদক প্রবেশের জন্য কুখ্যাত ছিল। তবে এখন চোরাকারবারিরা এসব পয়েন্টে মাদক আনতে সাহস করছে না। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, “আগে প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে মাদক আসত। এখন বিজিবির অবস্থান, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারির ফলে তা অনেকটাই কমেছে। শুধু মাদক নয়, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের তৎপরতাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।” একই রকম মন্তব্য করেন সীমান্তবর্তী গ্রামের কৃষক ক্লাসাই মারমা। তিনি বলেন, “আগে নদীর ওপারে জমিতে কাজ করতেই ভয় পেতাম। বিএসএফ আসত, হুমকি দিত। এখন বিজিবির উপস্থিতির কারণে আমরা স্বস্তিতে আছি।”
রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। আমরা বিজিবির নিয়মিত নিরাপত্তা সভায় এ বিষয়ে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। তাদের অব্যাহত অভিযান চললে রামগড়ের সীমান্ত অঞ্চল একদিন মাদকমুক্ত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।” ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন—সবকিছুর বিরুদ্ধেই আমরা সরব ও সতর্ক। সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিজিবির এই সুসংগঠিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি এটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পথকেও সুগম করেছে।

