পবিত্র ঈদুল আযহা কোরবানির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ফটিকছড়িতে কোরবানি পশু বেচা বিক্রি। এবার চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানি পশু প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৭ হাজারের মতো। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪১৯টি। এরমধ্যে ৩৪ হাজার ২১১টি গরু, ৪ হাজার ১১২টি মহিষ, ২৮ হাজার ৭৪০টি ছাগল, ২ হাজার ৩৫৬টি ভেড়া। চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য পশুর যোগান বেশি রয়েছে। এরফলে পশুর মূল্য নিয়ে নৈরাজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারপরেও পশু সম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন পশু কেনা-বেচায় নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে থাকবে বলে জানা গেছে। এদিকে আগামি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু আনতে শুরু করেছে। এছাড়া বিভিন্ন খামারেও যথেষ্ট গরু মহিষ এনেছে খামারীরা। এছাড়া বিক্রি করার জন্য অনেকে গরু মহিষ লালন পালন করেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়দের পাশাপাশি,মৌসুমি ব্যবসয়ীরাও যথেষ্ট গরু বাজার আনছে। বিক্রিও হচ্ছে মোটামুটি।৷
বিক্রতা ও ক্রেতারা জানান বিক্রি জমে উঠবে আর কয়েকদিন পর থেকে। এখন ক্রেতা বিক্রেতার মূল্য যাচাই করছে। শতাব্দী এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ এনাম বলেন,আমার খামারে ২০ টি গরু লালন পালন করেছি। বাজারে না তুলে খামার থেকে বিক্রি করার ইচ্ছে আছে। নাজিরহাট পৌরসভার ডাইনজুরী এলাকার মোহাম্মদ জসিম নামের যুবক বলেন বিক্রির উদ্দেশ্যে আমি চারটি গরু বড় করেছি। সামনে বাজারে তুলব। নানুপুর ইউনিয়নের ঢালকাটা গ্রামের বাবুল মিস্ত্রীর বাড়িতে মো. রাসেদ নামের যুবক একটি পাকিস্তানি শাহীওয়াল ও একটি অস্ট্রেলিয়ার হলেস্টেন ফিজিয়ান জাতের গরু লালন পালন করে বড় করেছে।কালা মানিক নামের গরু দুইটির দাম ১১ লাখ করে ২২ লাখ টাকা হাঁকাচ্ছেন। এদিকে কোরবানি উপলক্ষে বিভিন্ন সড়কে কোরবানি পশুর হাট বসে চলাচলে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবার মহাসড়কে এবং কোনো অস্থায়ী গরুর হাট বসবে না। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোমিন বলেন, আসন্ন কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সব পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভেটেরিনারি সার্জন থাকবে, তাঁরা পশুদের চিকিৎসা দেবেন।
