চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে সড়কের ধারে শতবর্ষী একটি গাছ কেটে ফেলার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। উপজেলার কাজিরহাট বাজারের উত্তর পাশে এ বিশাল গাছটি কাটা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ ও উম্মা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শতবর্ষী এ গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ভূজপুরের কাজিরহাট বাজারে অগ্নিকান্ডের কবলে পড়ে গাছটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় দোকানীরা গত শুক্রবার-শনিবার গাছটি বিনা অনুমতিতে কাটা শুরু করে। যদিও সওজদের এ বিষয়ে দায় রয়েছে। কারণ গাছটি সরকারের, সওজ কর্তৃপক্ষের।
ফটিকছড়ি পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এস আকাশ বলেন, ‘গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। কিন্তু শতবর্ষী এই গাছ কাটার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংশের মত এরকম বিধ্বংশী কাজ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। যে বা যারা এই কাজে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি দাবী করছি। তিনি বলেন, এ দায় কোনভাবেই সওজ এড়াতে পারেন না। কী রহস্যজনক কারণে অপরাধীদের আড়াল করছেন সওজ। এখনো কেন মামলা হয়নি তা সবাই জানতে চায়।’ জানাযায়, গাছ কাটার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সওজ কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে গাছটি জব্দ করে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে গাছটি দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়। ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী শিপন বলেন, ‘আমার হেফাজতে থাকা গাছের টুকরোগুলো পরিষদে জমা আছে। পুলিশ চাইলে মামলার আলামত হিসেবে সংগ্রহে নিতে পারেন।’ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছি। এটি জব্দ করে সওজ কর্তৃপক্ষতে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা গাছটি তাদের হেফাজতে নিয়ে নিয়মিত মামলা করবে।’
কিন্তু গাছ কাটার দুইদিন পরও সহজ কর্তৃপক্ষ এখনো কোন মামলা করেননি বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা দাবী করেন বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার অজুহাতে সওজ কৃর্তপক্ষ ধীর গতিতে আগাচ্ছেন। ফটিকছড়ি উপজেলা সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. ফারহান বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা গাফিলতি করছি না। এটি নিয়ে ভুজপুর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
