আরেকটি ধ্রুপদি লড়াইয়ের সাক্ষী হলো বিশ্বের ফুলবলপ্রেমীরা।চিত্রনাট্য স্মরণ কালের তিনটি ক্লাসিকাল ফুটবল ম্যাচের মতোই প্রতিপক্ষ ভিন্ন কেউ হলেও অন্য দলটি যথারীতি বেনজেমার রিয়াল মাদ্রিদ।হ্যাঁ,দিন দিন রিয়ালের সাফল্যের সাথে যেভাবে ধারাবাহিক ভাবে নিজেকে জড়াচ্ছেন তাতে করে বরং বেনজেমার রিয়াল মাদ্রিদ না বলাই অন্যায় করা হবে।ম্যানসিটির ইতিহাসে গতরাতে অতিথি হয়ে এসেছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগ জিতে গাণিতিক হিসেবে ম্যানসিটির ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখার শিরোনামই করার কথা বিশ্বের বেশির ভাগ মিডিয়ার স্পোর্টস জার্নালিষ্টের।
কিন্তু কয়জন এতো বড় রিস্ক নেবেন তা বলাই বাহুল্য।বরং হেরে যাবার পরেও ফাইনালের প্রশ্নে বাজির দর রিয়ালের দিকেই বেশি থাকবে।অতিথি হয়ে এসে চার গোল হজম করলেও বেনজেমার রিয়াল তিনটি ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। তাই প্রতিপক্ষের মাটিতে তিন তিনটি গোল করে সমীকরণ সহজ বানিয়ে মাদ্রিদের বিমানে চেপেছেন বেনজেমারা। দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে নূন্যতম ব্যবধানে জিতলেই ফাইনালে চলে যাবে বেনজেমার রিয়াল মাদ্রিদ।অথচ গতরাতের ম্যাচটা কী বিভীষিকা দিয়েই না শুরু করেছিলো রিয়াল।ম্যাচের শুরুতেই দেড় মিনিটেই কেভিন ডি ব্রুইন গোল করে হতবাক করে দেয় রিয়াল তো বটে ইতিহাসের দর্শকদেরও কি নয়? এই গোল যেনো ম্যানসিটিকে উন্মত্ত করে তোলে গোলের নেশায়।একের পর এক আক্রমনের ঝড় বয়ে যায় রিয়ালের ডিফেন্সের উপর দিয়ে।এগারো মিনিটের সময় জেসুসের গোলে রিয়াল ভক্তরা প্রমাদ গুনতে শুরু করে।দুই গোল হজম করে যেনো হুঁশ ফেরে রিয়ালের।
সময় গড়ানোর সাথে খেলায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রিয়াল।যথারীতি বেনজেমার নৈপুণ্যেই তা মঞ্চস্থ হচ্ছিল ইতিহাসে।৩৩ মিনিটে ফল পেয়ে যান বেনজেমার।দূর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান ২-১ করে বিরতিতে যায় দুই দল।বিরতির পর ধারার বিরুদ্ধে ফোডেনের গোলে ম্যানসিটি এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে।গতকালের ম্যাচে তারপরেই আসে ক্ল্যাসিকাল মোমেন্ট। নিজের
একক নৈপূন্যে বহুদিন মনে রাখার মতো এক গোল করে ৫৫ মিনিটে ব্যবধান ৩-২ করেন ভিনিসুয়েস জুনিয়র।সমতাসূচক গোলের জন্য এরপর মরিয়া হয়ে খেলতে থাকা রিয়াল উল্টো থিতবো কোর্তোয়ার ভুলে হজম করে বসে আরেক গোল।৭৪ মিনিটে সিলভা করেন গোলটি।ম্যাচের বাকি সময়টা বারবার আক্রমণে উঠলেও ম্যানসিটির ডিফেন্স ভালোই সামলে নিচ্ছিলো তা।৮২ মিনিটে সেট পিস থেকে বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হ্যান্ডবল হয়ে যায় সিটির এক খেলোয়াড়ের হাতে লেগে।পেনাল্টি নিতে আসা বেনজেমার লা লাগায় আগের ম্যাচে দুটো পেনাল্টি মিস করার কথা বলছিলেন বারবারধারাভাষ্যকাররা।কিন্তু না।এবার আর ভুল হয়নি বেনজেমার।ঠান্ডা মাথায় গোল করে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন।অবশিষ্ট সময়ে আর গোল না হলে ঘরের মাঠে জয়ের স্বাদ নিয়ে ম্যানসিটি আর প্রতিপক্ষের মাঠে তিন গোল করার তৃপ্তি নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠ ছাড়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ রাত একটায় মুখোমুখি হবে লিভারপুল বনাম হলুদ সাবমেরিন খ্যাত ভিলারিয়াল।

