দশমী’ কথাটির সাধারণ অর্থ খুবই সহজ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে বাপের বাড়ি ছেড়ে পাড়ি দেন স্বামীগৃহ কৈলাসের দিকে। সেই কারণেই এই তিথিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয়। কিন্তু দশমিকে বিজয়া বলা হয় কেন? তার কারণ খুঁজতে গেলে অনেক পৌরাণিক ব্যাখ্যা উঠে আসবে সামনে। পুরাণে মহিষাসুর বধ কাহিনীতে লেখা রয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন দুর্গা। নারী শক্তির এই জয়লাভকেই ‘বিজয়া’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবার, শ্রী চণ্ডীর কাহিনী অনুসারে, দেবী আবির্ভূত হন আশ্বিন মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশী-তে। মহিষাসুর বধ করেন শুক্লা দশমীতে। তাই দশমীতে এই বিজয়কেই চিহ্নিত করে বলা হয় ‘বিজয়া দশমী’। হাজারো পৌরাণিক ব্যাখ্যা। হাজারো পৌরাণিক মতামত। এসব কিছুকেই উপেক্ষা করে বাঙালি কিন্তু মেতে ওঠে শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নিয়ে। আজ এই পুজোর অবসান। প্রত্যেকের চোখে জল। আবারো এক বছরের অপেক্ষা। দেবী দুর্গার বিদায় দিনে বিষাদের সুরেই ‘বিজয় দশমী’ পালন করেন মর্ত্যবাসীরা। মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়, চলে একে অপরকে আলিঙ্গন ও মিষ্টিমুখ। বিশ্বসংসারে ছড়িয়ে পড়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা। ‘আসছে বছর আবার হবে’ এই আশা নিয়েই মহামায়াকে বিদায় জানান শতকোটি মর্ত্যবাসী।
দুর্গাপূজা কেবলমাত্র পুষ্পবিল্বপত্রের এবং ঢাকঢোলের পূজা নয়। এ পূজা মানবতার এক বিরাট মিলন-উৎসব।মাতৃ-আরাধনায় রত যারা তাদের উদ্দেশ্য বলা – “সব জেনো তুমি” আর সব তোমারই তোমাতে।” এমন ভাব থাকলেই পূজার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে উদ্বর্দ্ধনার পথে এগিয়ে চলা। প্রতিমাকে পুতুল মনে ক’রে পূজা করলে পূজার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না। পূজার অনুষ্ঠাতাদের সচেতন ক’রে দিয়ে ঠাকুর বললেন – “মা এলেন, পুতুলের মতন তাঁকে পূজা করলে নিজ প্রাণে তাঁর প্রতিষ্ঠা হল না, সে পূজা কি সম্বর্ধনা নিয়ে আসতে পারে? দেবতাকে মাটি বা পাথরের পুতুল ভাবতে ভাবতে অন্তরটাও ঐ রকম মাটি বা পাথর হ’য়ে ওঠে। দেবতার পছন্দ, সুখ-দুঃখ সম্বন্ধে আমাদের কোন বোধ গজায় না।তাই তাঁর দেবভাব অনুধাবন করার কোন ঝোঁকও আসে না, সম্বর্ধনাও স্তব্ধ হ’য়ে যায়। সে পূজা হলো খেয়ালের পূজা – কতকগুলি প্রাণহীন অনুষ্ঠান ও আঙ্গিকের সমষ্টিমাত্র। পূজার সময় প্রতিমার চক্ষুদান ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। তার মন্ত্রও আছে। ঐ মন্ত্র পাঠ ক’রে করণীয় অনুষ্ঠান করলেই দেবতার চোখ ফুটল, প্রতিমা প্রাণ পেলেন। কিন্তুএই ব্যাপারটা কি আমরা সত্যিই বোধ করি? যদি করি তাহ’লে সেই প্রতিমার সামনে অশালীন আচরণ করি কী ক’রে, প্যাশন-জাগানো গানের রেকর্ড চালাই কী করে, কী ক’রেই বা অবান্তর কথা বলি? যা আমরা আমাদের জীবিত গুরুজন বা মা-মাসীর সামনে তো করি না? কেন? কারণ, আমরা বিশ্বাস করি তিনি সামনে আছেন। আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তেমনি দেবতাকেও যদি আমরা প্রাণবন্ত মনে করতাম তাহ’লে তাঁর সম্মুখে কথায়, কাজে ও ব্যবহারে অবশ্যই সংযত হতাম। সেইজন্য ঐ চক্ষুদান বা প্রাণপ্রতিষ্ঠার কাজ একটা অনুষ্ঠানমাত্রে পর্য্বসিত হয়েছে। প্রকৃত চক্ষুদান হচ্ছে আমার চক্ষু তাঁর চক্ষুতে দান করা। আমার চক্ষু যেন তাঁরই চক্ষু হ’য়ে ওঠে সেইভাবে বলা। তিনি ব্যক্তি, বিষয় ও ব্যাপারকে যেমনভাবে দেখতে পছন্দ করেন, আমি যদি সেইভাবে দেখতে অভ্যস্ত হই। তাহলে তখনই মাতৃ আরাধনা আমাদের কাছে সার্থকতা লাভ করবে।
ঋষি বা দ্রষ্টা পুরুষরা মা-দূর্গাকে কখনও মাটির প্রতিমা হিসাবে দেখেননি। তাঁরা বলেন, প্রতিমায় যাঁকে পূজা করা হয়, তিনি প্রতিঘরের দেহধারী মা। তার মানে, নিজের মায়ের উপর ভক্তি ভালবাসা যার যত জীবন্ত, তার কাছে দুর্গাপূজার সার্থকতা তত বেশী। নিজের মাকে খুশী ও তৃপ্ত না ক’রে হাজার ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পূজা করলেও কোন ফল হয় না। তাই দয়াল ঠাকুর বলেছেন- “ভগবতীপূজা করি, তার মানে- নিজের মাকেই উপাসনা করি।” তিনি শুধু পূজার বেদীতে দশভূজা প্রতিমা নন, ঘরে-ঘরে জীবন্ত দ্বিভূজা জননী। প্রতিটি ঘরের মা জগতের মায়েরই একটি রুপ। মা-দুর্গা ‘দশভূজা’ মানে তাঁর দশ হাত। অথচ ঘরের মা যিনি তাঁর তো দুই হাত।তাহ’লে এই দশ হাতের তাৎপর্য্য কী? তার মানে, তিনি দুই হাতে দশ হাতের কাজ করেন। যিনি মা, তিনি একাধারে ঘরের বধূ ও গৃহিণী। স্বামী-সন্তান সহ পরিবারের প্রতিটি মানুষের জন্যই তাঁকে সর্বদা তৎপর থাকতে হয়। এদের সোয়াস্তি ও খাদ্যখানার দায়িত্ব তাঁরই হাতে। যার যেমন দরকার, তিনি তার তেমনি আহারের ব্যবস্থা করেন।গুরুজনদের সেবাযত্ন করেন। ছোটদের শিক্ষা, লালন-পালন ও ভালোমন্দের দিকে নজর রাখেন।তাছাড়া, বাইরের আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব বাড়িতে এলে তাদের সুখসুবিধা দেখা ও যথাবিহিত পরিচর্য্যা করা, তাও তাঁকেই করতে হয়। এই সমস্ত কিছু বজায় রেখেও সংসারে একটু সাশ্রয় কিভাবে করা যায় তারও চেষ্টা তাঁর থাকে। এইভাবে গৃহস্থালীর সব দিকে সমানভাবে লক্ষ্য রেখে সব কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ক’রে চলেন যে মা, চলতি কথায় তাঁর সম্বন্ধে বলা হয়, তিনি যেন দুই হাতে দশ হাতের কাজ করছেন। এই হ’ল দশ হাতের তাৎপর্য্য।সেইজন্য পূর্ণ নারীত্বের প্রতীক মা-দূর্গাকে আমরা দশভূজারুপে দেখতে পাই, যা’ কিনা প্রতি ঘরের প্রতিটি মায়েরই স্বরুপ বা প্রকৃতি। বিজয়া দশমী আর দশেরা সম অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কেউ বলে দশেরা, কেউ দশহারা, কেউ বা বলে নবরাত্রি দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসব হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রাচীন উৎসব।
বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষে এই উৎসব আশ্বিন মাসে অর্থাৎ ইংরেজি মাসের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আয়োজিত হয়। শুক্ল পক্ষের প্রতিপদে শুরু হয়ে এই পুজো চলে দশমী পর্যন্ত। শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং ভারতেই নয়, বিদেশেও এই উৎসব পালিত হয়। নেপালে এই উৎসবটি জাতীয় উৎসব। দশেরা অর্থাৎ নবরাত্রি, এর প্রথম নয় দিন মা দুর্গাকে পুজো করা হয় নানা ভাবে। শক্তির আরাধনা চলতে থাকে। অতঃপর দশম দিনে মাকে বিশেষ ভাবে সম্মান জানানো হয়। তার পর মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। আসছে বছর আবার এসো, এই বলে তাঁকে আবাহন জানানো হয়। শুরু হয় সকল বিভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে মিষ্টিমুখ করা। দশমীর এই আনন্দ চলতে থাকে লক্ষীপুজো পর্যন্ত। সকলেই এই উপলক্ষে একতার মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়।উপনিষদে আছ ‘মাতৃদেব ভব’। অর্থাৎ নারীই পরিবারের অভিভাবক। মাতৃজাতি তথা নারী জাতিকে সম্মান করা অবশ্য কর্তব্য। যখনই সংসারে কোনও সমস্যা আসে, নারী তার সকল শক্তি দিয়ে রক্ষা করে। মানবিকতা, ন্যায় বিচার, ভালবাসা, সেবা দিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করে। মা দুর্গার পুজোতে নারী জাতিও উদ্বুদ্ধ হয়। মা যেমন পরিবারকে সঙ্গে আনেন এবং শত্রু বিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, তারাও তেমনই তাদের পরিবারকে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ রেখে সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।নবগ্রহের যেমন নয়টি গ্রহ যথা রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু, ঠিক একই ভাবে মানুষের শরীরেও নবদ্বার আছে। যেমন দুই চক্ষু, দুই কর্ণ, দুই নাসিকা, মুখ, মলদ্বার, প্রস্রাব দ্বার। এই নবদ্বার যদি ঠিকঠাক চলে, তবেই মানুষ সুস্থ থাকবে। নবরাত্রি মানে নয়টি রাত্রি, যা নয়টি গ্রহের পরিচালনায় ঠিক মতো চালিত করতে পারে। শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর বাহ্যিক আড়ম্বরই নয়, মনের অন্তর থেকে দেবীকে পুজো করে প্রতিটা গ্রহের প্রভাবে যেন ঠিক ভাবে শরীর চালিত হয়, সেই প্রার্থনা করা। মা দুর্গাকে ঘরের মেয়ে হিসেবে পুজো করা বাঙালির তাই আজ মন খারাপ। দুর্গাপুজোর এই শেষ দিনটি অর্থাত্ দেবীপক্ষের দশম দিনটিকে দশমী বা বিজয়া দশমী বলা হয়ে থাকে। কেন দশমীকে বিজয়া দশমী বলা হয়, তা নিয়েই আলোচনা করা হল এখানে।পুরাকালে মহিষাসুর নামে এক ভয়ংকর অসুর ব্রহ্মার বর পেয়ে প্রবল ক্ষমতাশালী হয়ে যান। তিনি নিজের ক্ষমতাবলে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল দখল করে নেন। এমনকি তিনি দেবরাজ ইন্দ্রকেও স্বর্গ থেকে বিচ্যুত করেন মহিষাসুর। কোনও পুরুষ তাঁকে হত্যা করতে পারবেন না, এমনই বর তাঁকে দিয়েছিলেন ব্রহ্মা। তাই দেবতারা ঠিক করেন যে মহিষাসুরকে বধ করতে হলে কোনও নারীর সাহায্য নিতে হবে। কিন্তু এমন নারী কোথায়? তখন সব দেবতার মিলিত শক্তি থেকে আবির্ভূতা হন দেবী দুর্গা। পুরাণে মহিষাসুর বধের কাহিনী অনুসারে টানা নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধের পর শুক্লা দশমীতে মহিষাসুরকে বধ করেন মা দুর্গা । এই বিজয় লাভকেই বিজয়া দশমী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ত্রেতা যুগে লংকার রাজা দশানন রাবণ শ্রীরামচন্দ্রের পত্নী সীতা দেবীকে অপহরণ করেছিলেন। অকাল বোধন করে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে রাম স্ত্রীকে উদ্ধার করতে লংকা অভিযান করেন। শুক্লা দশমীতেই তিনি রাবণকে বধ করেন। রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রামের এই জয়লাভকে চিহ্নিত করা হয় বিজয়া দশমী নামে। মহাভারতেও এই বিশেষ তিথিটির উল্লেখ পাওয়া যায়। বার বছর বনবাস ও এক বছর অজ্ঞাতবাসের পর পঞ্চ পাণ্ডব আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতে তিথিতেই একটি শমীগাছের কোটরে থাকা তাঁদের লুকনো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং নিজেদের পরিচয় ঘোষণা করেন। আবার অনেকের মতে দেবীকে মৃন্ময়ী প্রতিমা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এদিন।
সেই কারণে এটি বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। চার দিন ধরে চিন্ময়ী দেবীকে মৃন্ময়ী রূপে পুজো করা হয়, দশমীতে বিসর্জনের পর তার থেকে মুক্তি পান দেবী দুর্গা।দুর্গাপূজার চতুর্থ দিবসে দশমীতে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জ্জন হয়। তারপর বিজয়া-উৎসব পালিত হয়। গুরুজনদের প্রণাম করা হয়, ছোটদের জন্য কল্যাণ কামনা করা হয়, সমবয়সীদের আলিঙ্গন ও প্রীতি- সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা হয়। এই বিসর্জ্জনের তাৎপর্য্য কি? মাকে কি জলে ডুবে দেওয়ার নাম বিসর্জ্জন? না। বিসর্জ্জন শব্দটি বি-সৃজ্ ধাতু থেকে উৎপন্ন, বিশেষ প্রকারে সৃষ্টি করা। যে মাতৃপূজা আমরা করলাম, সেই মায়ের সর্বমঙ্গলকারিণী স্নেহসুন্দর ভাব ও চরিত্রকে নিজের অন্তরে বিশেষভাবে সৃষ্ট অর্থাৎ দৃঢ়নিবদ্ধ ক’রে তোলা চাই। আমরা যেন ঐ দিব্যভাবে ভাবিত হ’য়ে উঠি, মায়ের সেবায় আমাদের বৃত্তিগুলিকে নিয়োজিত করি, তখনই হয় এই বিসর্জ্জনের সার্থকতা। এ না ক’রে পূজিত প্রতিমাকে হৈ-হৈ ক’রে জলে ডুবিয়ে দিলেই বিসর্জ্জন হয় না। আর, পূজিত ঐ প্রতিমাকে ঘরে সাবধানে রাখার বাস্তব অসুবিধা আছে। আবার, যে শ্রদ্ধাভক্তি সহকারে ঐ প্রতিমার পূজা করা হয়েছে, পূজার দিনগুলি পার হ’য়ে যাওয়ার পরে সেই প্রতিমাকে যদি ততখানি সম্মানার্হ আদরে রাখতে পারা না যায়, তাতে অন্তরের শ্রদ্ধা ক্ষুন্ন হয় এবং সেটা আমাদের পক্ষে ভাল হয় না। এইসব কারণে প্রতিমাকে নদীতে বা বড় দীঘিতে নিরঞ্জন দেবার ব্যবস্থা করা হয়। দেবতার দিব্যভাব অন্তরে বিসৃষ্ট(প্রতিষ্ঠিত) করার ভেতর দিয়ে মানুষ দিব্যচেতনাসম্পন্ন হ’য়ে ওঠে। অসৎকে পরাভূত ও নিরস্ত করার শক্তি তার জাগ্রত হয়। পশুশক্তি অকল্যাণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার বিজয় স্থাপিত হয়।
এই হ’ল আনন্দমুখর বিজয়া- উৎসব। তখন সে সবার প্রতি দরদী এবং একটা প্রেমিক মানুষ হ’য়ে ওঠে। সবাইকে সে ভালবাসতে পারে। বড়র প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটর প্রতি স্নেহ তার জীবনে সহজ ও স্বাভাবিক হ’য়ে ওঠে। সবাই এমনভাবে চলার ফলে পারস্পরিকতা-বোধও বৃদ্ধি পায় এরই বাহ্যিক প্রকাশ হ’ল পরস্পর আলিঙ্গন ও প্রীতি-সম্ভাষণাদি।

