যত্রতত্র বালি উত্তোলন বা মাটি কাটা আমাদের পরিবেশ ও সামাজিক তথা জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা সন্দ্বীপ সরেজমিনে পরিদর্শন, বৈজ্ঞানীক নমুনা সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সুপারিশ করার নিমিত্তে বাংলােদেশের উপকূলীয় মানুষের উপর পানি,জ্বালানী ও খাদ্য সংযোগের নিরাপত্তায় আর্থ সামাজিক প্রভাব নির্ধারন বিষয়ক একটি একাডেমিক গবেষণা চলছে।গবেষকরা সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, সন্দ্বীপে কর্মরত এনজিও,সিপিপি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন অংশীজন থেকে মতামত ও পরামর্শ গ্রহন করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন মুন্নার নেতৃত্বে উপরোল্লিখিত বিষয়ের উপর মাঠ পর্যায়ে তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের কয়েকজন ছাত্র /ছাত্রী। মাঠ পর্যায়ে গবেষণায় জড়িত ছাত্র /ছাত্রীরা হলেন তাসনিম বিনতে এরিন,স্বাধীন আলী, ফৌজিয়া আক্তার মিম, মোঃ মোাস্তাকিম। বিভিন্ন স্টেইক হোল্ডারদের মতামত নিয়ে তারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে সন্দ্বীপে বালি উত্তোলনের ব্যাপকতা না থাকলেও জেগে উঠা নতুন চর এর উপরিভাগ থেকে মাটি কেটে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। বিগত দিনে আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পরিবেশ এর ক্ষতি সাধন করে সন্দ্বীপের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি চক্র মাটির ব্যবসা করতো। অনেকে তাতে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা বা প্রশাসনের অনৈতিক সাপোর্ট এর কথাও তুলে ধরেছেন। আবার অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাটি কাটা বন্ধে আন্তরিক ছিলো বলেও জানান,বর্তমানেও অনেকে আন্তরিক। তবে তাদের ধরে জরিমানা করে কখনো এই মাটি কাটা বন্ধ যাবেনা, তার জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।তাই এই মাটি কাটা বন্ধ না হলে, নদী ভাঙ্গন বেড়ে যাওয়া,চরে জেগে উঠা ভুমির উর্বরতা নাশ, জমি চাষাবাদ উপযোগী করতে বেশী সময় লাগা সহ মাটির ট্রাক চলাচলের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছাসের পানি প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির ও আশংকা করছেন বলে জানান তারা।

