চট্টগ্রাম নগরের জামালখান-মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড় মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি-তর্কাতর্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের উপর। এতে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। সাউন্ড গ্রেনেডে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন। তিনি কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত। এসময় পুলিশের লাঠিপেটায় দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, নগরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে আজ বিকেল তিনটায় নগরের জামালখান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। খবর পেয়ে সকাল থেকে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অবস্থান দেখে সেখানে জড়ো হননি শিক্ষার্থীরা। তারা নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। এর আগে জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ যুবলীগ মিছিল বের করে। তারাও চেরাগী পাহাড় মোড়ে অবস্থান নেয়।
সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালের সামনে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে ¯েøাগান দিতে থাকেন। সাড়ে তিনটার দিকে যুবলীগের মিছিল থেকে কয়েকজন গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাত থেকে ফেস্টুন কেড়ে নিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এসময় পুলিশ কয়েকজন আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ একজনকে বেধড়ক পিটিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রিজন ভ্যানের সামনে ও পেছনে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশ জড়ো হয়ে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা পুনরায় নগরের মোমিন রোডের কদম মোবারক এতিমখানা মার্কেটের সামনে রাস্তার পাশে বসে বিক্ষোভ করতে থাকে।
একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের এসআই মোশাররফ আহত হন। এরমধ্যে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ আন্দরকিল্লা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশে থাকা বাশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা।
এদিকে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের কাজির দেউড়ি মোড়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের হত্যা, গণগ্রেপ্তার ও তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। এসময় যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ বিনা অপরাধে আমাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) অতনু চক্রবর্তী বলেন, ‘দুই পক্ষ মুখোমুখি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছি।’ নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে থাকা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আশরাফুল আলম বলেন, ‘সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা হলে আমরা তাদের (আন্দোলনকারী) সরিয়ে দিই। এসময় তারা আমাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। আমাদের কোতোয়ালী থানার এসআই মোশাররফসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা যাচাইবাছাই করে দেখছি।’
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শ্রাবণী চৌধুরী নামে চট্টগ্রাম কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। তবুও তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের কয়েকজন ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।’
চট্টগ্রামে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা : আটক ২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

