ভারত মহাসাগরে সোমালীয় জলদস্যুদের কবলেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ এবং ওই জাহাজে থাকা এক ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। জলদস্যুদের হাতে আটক ২৩ নাবিককে উদ্ধারে ইতিবাচনক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বুধবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।
নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সঙ্গে প্রথমবারের মতো যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। জলদস্যুদের কাছে জিম্মি নাবিক ও ক্রুদের উদ্ধারের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই নাবিক-ক্রুদের উদ্ধারের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে আলোচনার শর্ত গোপনীয়তার স্বার্থে বাংলাদেশি মধ্যস্থ্যতাকারীর বিষয়ে তথ্য দেয়া হবে না বলেও জানান।
এ বিষয়ে কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জলদস্যুরা যোগাযোগ (ফোন) শুরু করেছে। এখন আলোচনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।’
যোগাযোগ শুরু হওয়ায় এখন জলদস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে। দর-কষাকষি মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছালে জাহাজসহ নাবিকদের মুক্তি মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশ্য জলদস্যুদের যোগাযোগের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নানান উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও মালিকপক্ষ সমঝোতার নানা প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
এদিকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও নাবিকদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন সংবাদের পর অভিযান বন্ধ করতে নাবিকদের ওপর চাপ দিচ্ছে জলদস্যুরা।
জাহাজের নাবিক ক্যাপ্টেন আতিক ইউএ খান জানান, গত দুদিন আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী জিম্মি হওয়া জাহাজটিকে চাপের মুখে রেখেছে। অন্যদিকে দস্যুরাও অভিযান বন্ধ করতে নাবিকদের ওপর চাপ দিচ্ছে। ‘বাড়াবাড়ি’ করলে জাহাজ তীরে তুলে দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে জলদস্যুরা।
এদিকে সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজের মালিকপক্ষ ও সরকার নাবিকদের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো ধরনের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছি না। তা ছাড়া রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সুস্পষ্ট বার্তা হচ্ছে সহিংস অভিযান পরিচালনা করা যাবে না।”
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ দুপুরে ভারত মহাসাগরে ২৩ নাবিকসহ সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আব্দুল্লাহ। জাহাজে রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন কয়লা রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা বা ৬৬ লাখ ডলার। এসব কয়লা মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়া হচ্ছিল।

