রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল বরাত

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে পবিত্র ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি থেকে এসেছে। ‘শব’ মানে রাত, ‘বরাত’ মানে মুক্তি। শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। শবে বরাতের আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা ‘শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী’ বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষায় যা ‘শবে বরাত’ নামেই অধিক পরিচিত।
কোরআনুল কারিমে এসেছে, ‘হা-মিম! শপথ! উজ্জ্বল কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয়ই আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি।’ (সুরা-৪৪ দুখান, আয়াত: ১-৫)। মুফাসসিরিনগণ বলেন: এখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসে পূর্ণিমা রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে মাজহারি, রুহুল মাআনি ও রুহুল বায়ান)। হজরত ইকরিমা (রা.) প্রমুখ কয়েকজন তাফসিরবিদ থেকে বর্ণিত আছে, সুরা দুখান এর দ্বিতীয় আয়াতে বরকতের রাত বলে শবে বরাতকে বোঝানো হয়েছে। (মাআরিফুল কোরআন)।
হাদিস শরিফে আছে, ‘হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫, ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, রাজিন: ২০৪৮; ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬, মুসনাদে আহমদ, চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬)।
হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ করে বললেন, “হে আয়শা! তোমার কি এ আশঙ্কা হয়েছে?” আমি উত্তরে বললাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘তুমি কি জানো এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থীগণ ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।’ (শুআবুল ইমান, তৃতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮২)।
হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: নবীজি (সা.) এ রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন। তিনি আরও বলেন, নবীজি (সা.) তাঁকে বলেছেন, এ রাতে বনি কালবের ভেড়াবকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি: ৭৩৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। (ইবনে মাজাহ)। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ১৪ শাবান দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাত ইবাদত–বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো। কেননা, এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন, ‘কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিক প্রার্থী আছ কি? আমি রিজিক দেব; আছ কি কোনো বিপদগ্রস্থ? আমি উদ্ধার করব।’ এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন। (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)।
এ ছাড়া প্রতি মাসের ৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামেবিদের নফল রোজা তো আছেই, যা হজরত আদম (আ.) পালন করেছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী (সা.)ও পালন করতেন, যা মূলত সুন্নাত। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ফকিহ হাফিজ ইবনে রজব (রা.) বলেন, এদিনের রোজা আইয়ামেবিদের রোজার অন্তর্ভূক্ত। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা: ১৫১)।
এ ছাড়া মাসের প্রথম তারিখ, মধ্য তারিখ ও শেষ তারিখ নফল রোজা গুরুত্বপূর্ণ। শবে বরাতের রোজা এর আওতায়ও পড়ে। সওমে দাউদি পদ্ধতিতে এক দিন পর এক দিন রোজা পালন করলেও প্রতিটি বিজোড় তারিখ রোজা হয় এবং শবে বরাতের রোজার শামিল হয়ে যায়। সর্বোপরি রাসুল (সা.) রমজান মাসের পর রজব-শাবান মাসে বেশি নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন, শাবান মাসে কখনো ১০টি, কখনো ১৫টি, কখনো ২০টি নফল রোজা, কখনো আরও বেশি রাখতেন। এমনকি উম্মুহাতুল মুমিনিনগণ বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে এভাবে নফল রোজা রাখা শুরু করতেন, মনে হতো, তিনি আর কখনো রোজা ছাড়বেন না। (মুসলিম)।
কোরআন এবং হাদিসের বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে ব্যাপকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়। সারা পৃথিবীতে মুসলিম বিশ্ব ভাবগাম্ভীর্যের সহিত পবিত্র শবে বরাত পালন করে থাকে। এ রাতে নফল ইবাদত , নামাজ, কবর জিয়ারত, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমে নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মতগণ মহান এ রজনী উৎযাপন করেন। পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত বন্দেগী সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের অকাট্য নির্ভূল দলিল থাকা সত্ত্বেও একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে ইসলাম ও কোরআন হাদীস বিরোধী বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। বলা যায় , ওই ধরনের বক্তব্য যারা রাখেন , মূলতঃ তাদের সাথে ইসলামের মৌলিক বিষয়ের সাথে সম্পর্ক নেই। তারা ইসলামের বাস্তব, নীতি , আদর্শ , তাহজিব , তমদ্দুন নিয়ে বিতর্ক করায় তাদের কাজ। ওই সব শ্রেণী পেশার বিতর্কিত মহল থেকে সত্যিকার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীদেরকে দূরে থাকতে হবে।
ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচার , প্রসার এবং প্রতিষ্ঠা করা সকল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদের ওপর অবশ্যই কর্তব্য। সঠিকভাবে ইসলামের কর্মপন্থা ও নিদের্শনা মুসলিম সমাজে বাস্তবায়নে প্রকৃত ওলামা মাশায়েখদের এগিয়ে আসা দরকার।

এই বিভাগের সব খবর

আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই : প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা...

কক্সবাজারে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন । তিনি আজ দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শনে...

রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতাকে রাউজানে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুর...

সর্বশেষ

আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই : প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ...

কক্সবাজারে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন...

রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতাকে রাউজানে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল...

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তাকারী এক অভিযুক্ত আটক : সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম নগরে নিজ বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট...

যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই...

নিজে গাড়ী চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচিস্থলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে নিজেই গাড়ি চালিয়ে...