বঙ্গবন্ধু উপাধির প্রস্তাবক, চট্টগ্রামের আনোয়ারার সন্তান রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক আর নেই।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
১৯৫০ সালের ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার ভিংরোল গ্রামের মিয়া বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রেজাউল হক মুশতাক।
চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে অধ্যয়নকালে ১৯৬৫ সালে তিনি ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্কুলের ছাত্র অবস্থায় তিনি ১৯৬৬-৬৭ সালে নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির কনিষ্ঠতম সদস্য।
মুসলিম হাইস্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাস করার পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। এই সময় তৎকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যমণি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম পুত্র শেখ কামালের সাথে সহপাঠী হিসেবে তাঁর পরিচয় ঢাকা কলেজেই। ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক।
১৯৬৮ সালে যখন আগরতলা মামলার প্রহসনমূলক বিচারে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় শোনার জন্য অপেক্ষায়, সেই সময়ে ঢাকা কলেজের এক ছাত্র, তাঁর পুত্র শেখ কামালের সহপাঠী রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিবের জন্য নতুন এক উপাধির প্রস্তাব দিলেন। সেই উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
এর এক বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাইরে এলেন, ১৯৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তাঁর সম্মানে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করলেন। সেদিন থেকে শেখ মুজিব হয়ে গেলেন ‘বঙ্গবন্ধু’।
১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর জীবনীও প্রথম রচনা করেন রেজাউল হক মুশতাক। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন রেজাউল হক মুশতাক। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যথাক্রমে অনার্স ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
পরে মুশতাক ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হন রেজাউল হক চৌধুরী। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেএন হারবার কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
রেজাউল হক মুশতাক ঢাকায় চট্টগ্রামবাসীদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম সমিতি’র কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯০-৯১, ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৮-৯৯ সালে ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির তিন তিনবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২-২০১৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকা-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাদে মাগরিব রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে রেজাউল হক মুশতাক জানাযা হওয়ার কথা রয়েছে।

