পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান,আন্তর্জাতিক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব,জাতিসংঘ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন পাঠানো শুরু হয়েছিলো গত ৮ জানুয়ারী থেকে।দ্বাদশ সংসদ ও নতুন সরকারকে বিশ্ব কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় সেদিকে গভীর দৃষ্টি ছিলো দেশী-বিদেশী অনেকের।
কোন কোন বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রধান দুটো ব্লকের একটির সাথে সংশ্লিষ্ট দেশ নতুন সরকারকে অভিনন্দিত করার দ্বারা প্রকারান্তরে স্বীকৃতি দেবে হয়তো। কিন্তু সকলের পূর্বানুমানকে ভুল প্রমান করে ৮ জানুয়ারী থেকে শুরু করে আজ ২ ফেব্রুয়ারী অবধি বিশ্বের একের পর এক দেশ ও সংস্থা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দিত করে তাঁর সরকারের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ ও শুভকামনা জানিয়ে চলেছেন।যে তালিকায় আজ যুক্ত হয়েছে পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস ও আফ্রিকার গাম্বিয়া সরকার প্রধান আ্যাডামা ব্যারো। একইসাথে আজ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিনন্দন তালিকা গুনে দেখা গেছে ইতিমধ্যে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ দেশ বাংলাদেশের নতুন সরকার ও সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে অভিনন্দিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে গাম্বিয়া প্রেসিডেন্ট অ্যাডামা লিখেছেন,গাম্বিয়ার সরকার ও জনগণ এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় আপনাকে আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য গাম্বিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকারের প্রতিশ্রুতি নবায়ন করার এই সুযোগটি নিতে চাই।আমি আপনাকে পুনরায় নিশ্চিত করতে চাই,গাম্বিয়া সরকার গাম্বিয়া প্রজাতন্ত্র এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে মূল্য দেয়। আরেক চিঠিতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস লিখেছেন,বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে ফিলিপাইন সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।ফিলিপাইন বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের জন্য নতুনভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দেয়।কারণ আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আমাদের উভয় জনগণের স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করার জন্য আমাদের ইচ্ছাকে পুনর্ব্যক্ত করছি। চিঠির শেষে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বলেন,আমি আপনার সাফল্য কামনা করি।কারণ আপনি আপনার দেশকে আরও অব্যাহত উন্নয়ন এবং অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য জনগণের রায় পেয়েছেন। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরেন বোগদান-মার্টিন প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো লিখিত চিঠিতে বলেন,গুরুত্বপূর্ণ এ পদে আপনার সাফল্যের জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধি, ঐক্য, প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিটি সাফল্য কামনা করছি। ডোরেন বোগদান-মার্টিন উল্লেখ করেন,আইটিইউ বছরের পর বছর ধরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জাতীয় সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্বজনীন সংযোগ এবং একটি টেকসই ডিজিটাল দেশে রূপান্তরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে।
চিঠিতে তিনি বলেন,আমি আইসিটির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতিতে আপনার দেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি এবং পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই এবং আমি ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আমাদের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি। জেনেভাতে আমার অফিস এবং ব্যাংককে অবস্থিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আইটিইউ আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে, আমি আপনাকে বাংলাদেশ ও আইটিইউর মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখতে আমার পূর্ণ সমর্থনের নিশ্চয়তা দিতে পারি। মহাসচিব আরও বলেন, আমরা আপনার দেশকে টেলিকমিউনিকেশন এবং আইটি ক্ষেত্রে যেকোনো উপায়ে সহায়তার জন্য বরাবরের মতো প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত সফল সহযোগিতার অপেক্ষায় আছি।

