গলায় ফিতা ঝুলিয়ে, হাতে ভিডিও ক্যামরা নিয়ে প্রাইভেট কার যোগে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ আশেপাশের উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় ঘুরে ঘুরে সাংবাদিক পরিচয়ে ছবি তুলে সংবাদ প্রকাশ আর পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করাই যেন তাদের নিত্যদিনের পেশা। অহেতুক ঝামেলা এড়াতে তাদের হাতে চা-নাস্তার খরচের নামে চাঁদা তুলে দেন ইট ভাটার মালিকরা।
এমন একটি চাঁদাবাজ চক্রের ৩ জন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন উত্তেজিত স্থানীয় শ্রমিক-জনতা। ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) বিকালে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারা বটতল এলাকায় একটি ইট ভাটায় চাঁদাবাজি করার প্রাক্কালে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন দৈনিক গণতদন্তের ব্যুরো চীফ ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয়ধারী কর্ণফুলি উপজেলার মৃত নুর হোসেনের ছেলে আহম্মদ নুর (২৮), দৈনিক ঢাকার টাইম ও মানবাধিকার সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থার চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি পরিচয়ধারী হাটহাজারী উপজেলার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (৫২) ও একই উপজেলার ঢাকার টাইমের রিপোর্টার পরিচয়ধারী আবদুর রহমানের ছেলে দিদারুল আলম (৩৫)। এই সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির টাকা, একটি বিকল প্যানাসনিক ভিডিও ক্যামেরা, চারটি মোবাইল ফোন, চ্যানেল সংগ্রামী ৭১, সিটি প্লাস২৪ এর স্টিকার সম্বলিত দুটি মাইক্রোফোন, দৈনিক আলোকিত নিউজ এর স্টিকার শাটানো একটি প্রাইভেট কার জব্দ করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় শ্রমিক-জনতা কর্তৃক সাংবাদিক পরিচয়ধারী তিনজন চাঁদাবাজকে আটকের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। স্থানীয় জনতা তাদেরকে আমাদের কাছে সোপর্দ করলে আমরা থানায় নিয়ে আসি। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির শিকার বৃন্দাবন এলাকার ইট ভাটার মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, মাসখানেক পূর্বে এই চক্রটি প্রাইভেট কার যোগে বৃন্দাবনে এসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানান হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ২ হাজার, ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে গেছেন। অহেতুক ঝামেলা এড়াতে আমরা তাদের চাঁদা দিয়েছি। গত ১৫ দিন পূর্বেও এসে চাঁদা নিয়ে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পুনরায় এসে পালিয়েছিল।
চট্টগ্রাম জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস. এম. সাহেদ উল্লাহ জনি বলেন, এই চক্রটি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ইট ভাটায় এসে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের হুমকি দিয়ে তারা গত কয়েকদিন ধরে রাঙ্গামাটি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইট ভাটায় চাঁদাবাজি করে আসছে। গতকাল রাঙ্গামাটি কালা গাজী এলাকায় নুরুর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা, আজ রাউজানে কেবিডাব্লিও’র ফয়জুলের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। গত বছরও তারা আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইট ভাটা থেকে তারা ৩ হাজার, ৪ হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছিল। গতকাল তারা বৃন্দাবনে এসে আমার নাম শুনে পালিয়েছিল। আজ (বুধবার) আবার চারা বটতল এলাকায় চাঁদাবাজি করতে এলে স্থানীয় কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সহযোগিতায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

