গত ১৮ ডিসেম্বর এই প্রস্তাবের উপর ভোট হওয়ার কথা ছিলো।এরপর আরও ছয়বার পিছিয়ে গত ২১ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারিত হয়।সেদিনও প্রস্তাবের ভাষা যুক্তরাষ্ট্রের মন মতো হয়নি,তাই ঐদিনও স্থগিত হয়ে যায় ভোট।শেষ পর্যন্ত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের ১৩ টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।রাশিয়া চেয়েছিলো প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ বা বিরতি অন্তর্ভুক্ত করতে।কিন্তু রাশিয়ার ঐ প্রস্তাবে দশ সদস্য দেশ পক্ষে ভোট দিলেও আমেরিকা ভেটো দেয়। বাকি চার দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে যায়।
অবশেষে মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের প্রস্তাব শুক্রবার পাস হয়। অনেকের নিকটই এটি জাতিসংঘের একটি দূর্বল প্রস্তাব পাস করা হলেও গাজার বাস্তবতায় ইসরায়েলী হামলায় তো গণহারে মানুষ মরছেই,দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।তাই দূর্বল হলেও জরুরী ছিলো এই প্রস্তাব পাস হওয়া।যদিও পাস হওয়া আর সেটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা অনেক। বিবিসির প্রতিবেদনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বয়ং জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।তিনি বলেন,গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান সহায়তা বিতরণে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তাবটি এমন সময় পাস হয়েছে,যখন ইসরাইলের আগ্রাসনে গত দুই দিনে ৩৯০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭৩৪ জন আহত হযেছে।
এদিকে পাস হওয়া প্রস্তাবে,গাজায় নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দিতে সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।পাশাপাশি প্রস্তাবে,লড়াই বন্ধের আহ্বান শব্দটি এড়িয়ে ‘লড়াই বন্ধে উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা যখন চলছিল তার মধ্যেই শুক্রবার ইসরাইলের বাহিনী গাজায় তাদের আক্রমণের আরও বিস্তার ঘটিয়েছে।গাজার বাসিন্দারা গাজার উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে ভারী গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন।দক্ষিণে খান ইউনিস এবং রাফাহতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী গাজার মধ্য অঞ্চলের আল-বুরেজ এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে দক্ষিণে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এটি এই এলাকায় সম্ভাব্য স্থল হামলার ইঙ্গিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
সূত্র:- বিবিসি,আল-জাজিরা,ভয়েস অফ আমেরিকা
