বিশ্বকে আরও একবার চমকে দিয়ে উত্তর কোরিয়া পরীক্ষামূলক হোয়াসং এইটিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।এতে মনে হচ্ছে দেশটি শীঘ্রই একটি পারমাণবিক সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে যাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।বিশ্লেষকরা একথা জানান।
২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন এর মতে সোমবারের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেশের পারমাণবিক কৌশলগত শক্তির নির্ভরযোগ্যতা প্রদর্শন করেছে।তিনি আরও বলেন,উস্কানি দিলে পিয়ংইয়ং পাল্টা আঘাত করতে দ্বিধা করবে না। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বি-বি ওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ও জাপানের যুদ্ধবিমান দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের নিকটে যৌথ বিমান মহড়া পরিচালনা করেছে।এই মহড়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় শক্তি প্রদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন। এটি ছিল পিয়ংইয়ং এর ২০২৩ সালের পঞ্চম আইসিবিএম পরীক্ষা এবং এপ্রিল ও জুলাইয়ের পরীক্ষার পর তৃতীয়বার হোয়াসং এইটিন নিক্ষেপ। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে কিম “সবচেয়ে শক্তিশালী” বলে প্রশংসা করেছে।এটি সর্বোচ্চ ছয় হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এক হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকরা বলেন,এটি একটি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং যদি এটি স্বাভাবিক গতিপথে নিক্ষেপ করা হয় তবে এটির ব্যাপ্তি পনেরো হাজার কিলোমিটারের বেশি হতে পারে,যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অংশে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট। ওবামা প্রশাসনের সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিষয়ক হোয়াইট হাউসের সাবেক সমন্বয়কারী গ্যারি সামোর বলেন,তিনি এই সপ্তাহের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে আংশিকভাবে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা দৃঢ় করার প্রতিবাদে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে“রাজনৈতিক সংকেত” হিসেবে দেখছেন।
১৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক পরামর্শদাতা গ্রুপের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।যুক্তরাষ্ট্র সিউলকে রক্ষা করতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ তাদের হার্ডওয়্যারের সম্পূর্ণ ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সূত্র:-নিউইয়র্ক টাইমস ও ভয়েস অফ আমেরিকা

