গত ১৯ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দিয়ে চারজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে ডিবি বলে তিনি জানান।
২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। হারুন অর রশীদ বলেন,ট্রেনে আগুন লাগানো রাজনৈতিক কোনো পার্ট না।এটি এক ধরনের দুর্বৃত্তায়ন। যারা ট্রেনের বগিতে আগুন লাগিয়েছে,তারা ছাড় পাবে না।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ডিবি পুলিশ কাজ করছে। অনেকের নাম পেয়েছি।আশা করছি তাদের দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে।
তিনি বলেন, যে কোনো ঘটনা ঘটার পর ডিবি সব সময় ছায়াতদন্ত করে।রেলে নাশকতা ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে শিশুসহ চারটি তাজা প্রাণ চলে যায়।যারা এ কাজটি করেছে,তারা ২৮ তারিখের পর থেকেই নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্যই এই কাজটি করেছে।বিচ্ছিন্ন কয়েকটি জায়গায় তারা বাসায় আগুন লাগাচ্ছে।বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি।নতুন করে তারা এখন ট্রেনে আগুন লাগানো শুরু করেছে। অন্যদিকে নারকীয় সেই ঘটনার তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা বলেন,ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তিনজনকে সন্দেহ করার কথা জানায় তদন্তকারীরা।এদের মধ্যে এক যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
ডিবি প্রধান আজ মিডিয়াকে নিশ্চিত কুরলেন, তাঁদের পরিচয় পেয়েছে ডিবি পুলিশ। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। আপাততঃ মামলাটি রেলপুলিশের কাছে থাকলেও ছায়া তদন্ত করছে একাধিক সংস্থা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার হারুন অর রশীদের বক্তব্যের মতো করেই বলেন,আমাদের সব ধরনের তদন্ত চলছে।নির্বাচন বানচালের জন্য অতীতে যারা জ্বালাও পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল,এ ঘটনাও তারাই ঘটিয়েছে।আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্য ছিল তাদের।ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার ভোরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা।ভোর ৫টা ৪ মিনিটে খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর পৌনে ৭টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে একটি বগি থেকে মা-ছেলেসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তারা হলেন,নাদিরা আক্তার পপি (৩৫) ও তার ছেলে ইয়াসিন (৩), রশিদ ঢালী ও খোকন।
