গত ১৩ ডিসেম্বর রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।হামলায় কিয়েভের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে,রাশিয়ার ছোঁড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবকটিই ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। রাশিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শহরের একটি শিশু হাসপাতাল ও পানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো । ভিতালি ক্লিটস্কো আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি শিশু হাসপাতাল ও শহরের পানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কিয়েভের সেনা প্রশাসনের প্রধান সের্হি পপকো বলেন, কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলায় তার দেশকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ৬১ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন।এই তহবিল সংগ্রহে মার্কিন কর্মকর্তাদের রাজি করাতে জেলেনস্কি এখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। জেলেনস্কি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “রাতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, শীতকালে আবাসিক এলাকা, কিন্ডারগার্টেন এবং জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার চেষ্টা করে রাশিয়া আবারও প্রমাণ করেছে তারা একটি জঘন্য দেশ। এর জবাব অবশ্যই পাবে তারা ।” জেলেন্সকি আরও বলেন, তিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। রাশিয়া “প্রমাণ করেছে যে এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক।” জেলেন্সকি ৬১ বিলিয়ন ডলার ত্রাণের নতুন অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে বলিষ্ঠ যুক্তি তুলে ধরছেন। ইউক্রেনকে চলমান যুদ্ধে আরও সহায়তা করার এই বিষয়টি এখনো কংগ্রেসের বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রায় দুই বছরের নৃশংস যুদ্ধের পরে রাশিয়ানদের কাছে তারা তাদের নিজেদের অঞ্চল হস্তান্তর করবে এই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে ইউক্রেনের নেতা বলেন, “সত্যি বলতে কি, এটা পাগলামি।” ধারণা করা হয়, বাইডেন ইউক্রেনের বিজয় এবং মস্কোর সাথে আলোচনা শুরু না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের সফলতা এবং ইউক্রেনে পুতিনের ব্যর্থতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এটি করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পরিপূরক তহবিলের অনুরোধটি পাস করা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে এই অনুমোদন করতে হবে, তবে তারা এখনও নিশ্চিত নয়। এর আগে মঙ্গলবার জেলেন্সকি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।এদিকে রিপাবলিকানরা বলেছেন তারা, তহবিলের “যথাযথ তদারকি” এবং ” একটি স্পষ্ট কৌশল” দেখতে চান । যদিও আমেরিকান করদাতাদের মধ্যে ইউক্রেনের বিষয়টিতে বিরক্ত এবং ক্লান্ত হবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।তাঁদের অনেকেই ইউক্রেনকে দেওয়া অর্থ বা সামরিক সরঞ্জাম সবকিছুই অপচয় মাত্র।আমেরিকানরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে জয়ী হবে এটা বিশ্বাস করেনা। ইতিমধ্যেই কিছু রিপাবলিকান প্রেরিত অর্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেন অস্ত্রের বরাদ্দে না গিয়ে সরকারী সহায়তায় যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্র:-এপি,রয়টার্স ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

