রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত ঘুমাই বিলে বিভিন্ন স্থানে আমন ধান কাটার কাজে ব্যস্থ সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। অপর দিকে উপজেলার সর্বত্র বিলে ধান কাটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান ক্ষেতে মৌ মৌ সুগন্ধি চড়াচ্ছে। তেমনি গুমাইবিলের পাশাপাশি অন্যান্য বিলেও ধান কাঁটার ব্যাপক উৎসব দেখা যাচ্ছে। ঘুমাই বিলের মাঠ আর জমিতে যতদুর চোখ পড়ে শুধু দেখা মিলছে সোনালী রঙের ধানের ছড়া ঝুলছে আর দুল খাচ্ছে। পুরো মাঠজুড়ে যেন সোনালী আমন ধানে এখন ব্যাপক সমাহার। কৃষকরা ধান কাটার তালে তালে গানের শোরে যেন প্রকৃতি তাদের মিশে আছে। ভোরে পরে সূর্যের আলোতে ঝকঝকে হয়ে উঠে ঘুমাই ধান। পড়ন্ত বেলায় রাঙানো আলো মেকে অন্যরখম রখম দেখাচ্ছে ওই ঘুমাই আমন মাঠ। সবুজ সোনালী মাখা ওই ধানের মাঠকে ঘিরে তৈরী হচ্ছে কৃষক-কৃষানির মধ্যে যেন উৎসব। গুমাইবিলের চন্দ্রঘোনা ব্লক এর কৃষক নুরু মিয়া জানান, এবার গুমাইবিলে প্রায় বিভিন্ন স্থানে গোনগুনিয়া রোগ ও কারেন্ট পোকায় আক্তান্ত হয়েছিল। এতে বিষসহ বিভিন্ন কিছু প্রয়োগ করেও রক্ষা করা যায়নি। এ কারনে জমিনে আমনের বাম্পার ফলন না হওয়ার সম্ভবনা বেশী।
মরিয়ম নগর এলাকার আরেকজন কৃষক বলেন, এবারে ঘুমাই বিলের কৃষকদের মধ্যে মরার উপর খড়ার ঘা, প্রথম রূপন ধান বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ২য় বারে গোনগুনিয়া ও কারেন্ট পোকায় আক্রান্ত হয়েছি। বিষ, বিভিন্ন ঔষুধ ব্যাবহার করেও আমন ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এই কারণে ঘুমাই বিলে বাম্পার না হওয়ার সম্ভবনা বেশী। স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্রে জানায়, ঘুমাই বিলে ধানকাটা শুরু হয়েছে। বন্যার কারনে কিছু আমন ধান পাকতে সময় লাগতে পারে। বন্যার কারনে ঘুমাই বিলে কিছু অংশে ধান গাছ নষ্ট হয়েছিল। দ্বিতীয়বার রোপনকৃত আমন ধানগুলো পাকতে সময় লেগেছে। এদিকে রাঙ্গুনিয়ার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌর সভাতে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে একজন কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ বছর রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ হাজার ৪ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এবার আমন ধান বন্যার কারনে ঝুঁকিতে ছিল। কিন্তু আমাদের সচেতনতা ও পরামর্শের ওই ঝুঁকি মোকাবেলা করে কাটিয়ে উঠাতে বাষ্পার ভাল ফলন হওয়ার সম্ভবা রয়েছে। ইতি মধ্যে আগাম জাতেরও কিছু ধান কাটা হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভাল থাকলে এক সপ্তাহের ভিতরে সব ধান কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে।

