আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র পদে প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক চসিক মেয়র এম মনজুর আলম। সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনজুর আলম। গতকাল রবিবার এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু।
মনজুর আলম জানান, আমি ১৭ বছর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম, ৩ বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং ২০১০-১৫ সাল পর্যন্ত চসিকের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে কাজ করেছি। এছাড়া মোস্তফা-হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও হোসনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বেশকিছু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান করেছি। এবার চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কাজ করতে চাই। আশা করছি সকলের সমর্থন পাবো।
মনজুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, বাবা মনজুর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সেজন্য মঙ্গলবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নেবেন। মূলত এলাকার মানুষজনের চাপের কারণে তিনি নির্বাচনে আসছেন বলে জানা গেছে তার পারিবারিক সূত্রে।
জাতীয় বা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলেই আলোচনায় আসেন নিভৃতচারি এই রাজনীতিবিদ। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন চাননি। চট্টগ্রাম-১০ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পান মাত্র কয়েকমাস আগে উপ-নির্বাচনে জয়ী সাবেক যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু।
তবে চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনজুর আলমের পারিবারিব প্রভাব রয়েছে। এই আসনে তিনি এর আগেও নির্বাচন করেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবার। তার উদ্যোগে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নগরজুড়ে নানা সেবামূলক কাজও বেশ প্রশংসিত। তার উদ্যোগে কাট্টলিতে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম। মানবিক সহায়তার জন্য তার প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে পরিচিত পেয়েছে চট্টগ্রামে।
তবে দলের সঙ্গে অভিমান করে ২০১০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হন। সেবার তিনি বিপুল ভোটে হারান তিনবারের মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। তবে ২০১৫ সালে আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি। এরপরপরই বিএনপি ছাড়েন মনজুর আলম।। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রাজনীতিতে। এর পর নেতাদের আহ্বানে আবারও ফিরে যান তার পুরনো দল আওয়ামী লীগে। ২০২০ সালে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

