এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ‘মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী সিডিএ ফ্লাইওভার’, বাকলিয়া এক্সেস রোড ‘জানে আলম দোভাষ সড়ক’ এবং ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ সড়ক পর্যন্ত লিংক রোড ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব সড়ক’ হিসেবে নামকরণ করেছে সিডিএ। এই তিন প্রকল্প মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এদিকে উদ্বোধনের একদিন আগে সোমবার মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সিডিএ এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ। এসময় তিনি পতেঙ্গা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানস্থলও পরিদর্শন করেন।
এক্সপ্রেওয়ে পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন তা একে একে বাস্তবায়ন করছেন তিনি। সে সময় তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজ হাতে নিয়েছেন। যার প্রমাণ পাচ্ছে চট্টগ্রামবাসী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের পর উদ্বোধন হচ্ছে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সিডিএ এক্সপ্রেসওয়েসহ সিডিএ’র তিন প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিডিএ’র সচিব মো. মিনহাজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্, উপ সচিব অমল গুহ, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। 
এদিকে নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গার টানেলের মুখ পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে সিডিএ। চার লেনের এই ফ্লাইওভারটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী সিডিএ ফ্লাইওভার’। তবে লালখানবাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের কাজ অসমাপ্ত রেখে আপাতত টাইগারপাস পর্যন্ত কাজ শেষ করেই উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএ। আবার উদ্বোধন হলেও এখনই গাড়ি চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলছে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গাড়ি চলতে দেওয়া হবে সীমিত পরিমাণে।
বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে নেমে মুরাদপুর–লালখান বাজারের বিদ্যমান আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের সাথে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে মুরাদপুর থেকে ফ্লাইওভারে ওঠা কোনো গাড়ি সরাসরি পতেঙ্গা সৈকত বা টানেলের মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। পতেঙ্গা থেকে শহরে আসা গাড়িগুলো টাইগারপাস হয়ে লালখান বাজারে ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনে নিচে নামবে এবং যাদের মুরাদপুর বা বহদ্দারহাট কিংবা ওই রোড ধরে অন্য কোথাও যাওয়া দরকার তারা লালখান বাজার থেকে আবার ফ্লাইওভারে চড়তে পারবে। টাইগারপাসে পাহাড় না কাটার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের চার লেনের মধ্যে দুই লাইন নিচে নামিয়ে দিয়ে ডিজাইন করা হয়। মূল ফ্লাইওভার থেকে পরে বিভিন্ন পয়েন্টে ১৪টি লুপ এবং র্যাম্প নামানো হবে।
চট্টগ্রামের যানজট নিরসন করে নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ১১ জুলাই।
২০১৮ সালের নভেম্বরে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়। এ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ ফুট প্রশস্ত চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আছে ২৪টি লুপ র্যাম্প এবং ৩৯০টি পিলার। নগরীর যানজট নিরসন ও বিমানবন্দর থেকে মূল শহরের যোগাযোগ সহজ করতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে দাবি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য জানে আলম দোভাষের নামে করা বাকলিয়া এক্সেস রোড ইতোমধ্যে সড়কটি নগরীর যান চলাচলে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা ব্যবহার করে শহরের সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে মাত্র ৫ মিনিটে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। শহরের যান চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা ৪ লেনের সড়কটি নির্মাণে ২১৭ কোটি ৫১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ সড়ক পর্যন্ত লিংক রোডে ইতোমধ্যে পুরোদমে যান চলাচল শুরু হয়েছে। লালখান বাজার থেকে ফ্লাইওভারে বায়েজিদ বোস্তামি সড়কে নামার পর ওই সড়ক ধরে ঢাকা–চট্টগ্রাম রোডে যাতায়াতে গতি এসেছে। সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩১৯ কোটি ৬১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘বাকলিয়া এক্সেস রোড ও ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ সড়ক পর্যন্ত লিংক রোডে গাড়ি চলাচল করছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হলেও কিছু কাজ বাকি থাকায় যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। যানজট নিরসন ও বিমানবন্দর থেকে মূল শহরের যোগাযোগ সহজ করতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।’

