প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল টেকনাফে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি ঘাটে দুইটি কাঠের ট্রলার করে ৩২ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। এসময় অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু দৌজাসহ সরকারি কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর স নাইং (saw naing)।
অতিরিক্ত শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু দৌজা বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করতে মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। বর্তমানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
বৈঠকের আগে মঙ্গলবার সকাল ৮ টার সময় কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে কয়েকটি বাসে করে টেকনাফের ২৪ নং লেদা-নয়াপাড়া ক্যাম্প থেকে দেড়শ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ পৌরসভা নাইট্যং পাড়া সংলগ্ন বনবিভাগ ও সড়ক-জনপদ বিভাগের নদী নিবাস রেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হয়।
মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে আসা টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. বজলুল রহমান জানান, মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোকজন নিয়ে আসা হয়েছে। এবং তারা মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। মূলত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বছরে ১৫ মার্চ ও ২৫ মে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল দুই দফায় বাংলাদেশে এসেছিল। সে সময় প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ফিরে যায় দলটি। তবে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ দেখতে ৫ মে বাংলাদেশ সরকার ও রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল রাখাইন সফর করে।
এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আট লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়। গেল বছর জানুয়ারিতে ওই তালিকা থেকে পরিবার ভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিক ভাবে ১১৪০ জনকে বাছাই করা হয় পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে।

