আজ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ জয়ের দিন। এরই মধ্যে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনের ছেয়ে গেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসন। নদীর তলদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বিষ্ময়কর বঙ্গবন্ধু ট্যানেল উদ্বোধন ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে সাজসজ রব।
সবখানে ট্যানেল ও সরকারের উন্নয় বার্তার প্রচারণা। দৃষ্টিনন্দন ব্যানার ফেস্টুনে এভাবেই আড়াল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের প্রচারনায় চাপা পড়েছে পাহাড় আর সবুজে ঘেরা বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সড়ক মহাসড়কজুড়ে দৈত্যাকৃতির বিলবোর্ড ব্যানারে শোভা পাচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন সাজে সেজেছে ট্যানেলের আনোয়ারার প্রান্তের মুখ। গোটা বন্দর নগরীর অলিগলি ও পথঘাটে এখন সাজ সাজ। গত এক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম আগমন ও বঙ্গবন্ধু ট্যালে উদ্বোধন ঘিরে চলছে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ।
আনোয়ার প্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল কেইপিজেড মাঠের বিশাল মঞ্চ ঘিরে সেজেছে নান্দনিক সাজে। পুরো মাঠে আশেপাশ চলছে এখনও ব্যানার লাগানোর কাজ। যেন উৎসবে মেতেছে এলাকাবাসী।
চট্টগ্রামের ১৬ টি সংসদীয় আসনের প্রায় একশো কিলোমিটার সড়ক জুড়ে চলছে ব্যানার ফেস্টুনের রাজত্ব। মনোরম ও সৌন্দর্য চাপা পড়েছে ট্যানেলের প্রচারণায়। প্রধানমন্ত্রীকে বরণের অপেক্ষা চট্টগ্রামবাসীর।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সমাবেশস্থলে একটি বড় নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমাবেশে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে আমাদের জনসভা এক বিশাল মানবসমুদ্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য একটি গর্বের বিষয়।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এই টানলের মেগা প্রকল্প পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, টানেলটি বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ এটিই এই অঞ্চলের প্রথম নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গপথ। তিনি আরও বলেন, টানেলটি চট্টগ্রাম নগরীকে চীনের সাংহাই নগরীর মতো ‘দুটি শহরকে একটি নগরীতে’ পরিণত করবে এবং এটি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের শেষ। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীকে বরণের পালা। নগরীর আন্দরকিল্লা প্রিন্টিং প্রেস সমিতির তথ্য মতে ট্যানেলের উদ্বোধন ঘিরে অন্তত ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে চট্টগ্রামে।

