বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তথ্য জানানো হয়, ১৫টি উপজেলার ২০০টি ইউনিয়নের ২০০টি মেডিকেল টিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি করে ৭৫টি টিম, ৯টি আরবান ডিসপেনসারিতে ৯টি মেডিকেল টিম, স্কুল হেলথ ক্লিনিকে ১টি মেডিকেল টিম, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৫টি মেডিকেল টিমসহ ২৯০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ছয় উপকূলীয় উপজেলায় ৬০৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরে ১১৬টির মধ্যে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দুর্যোগে যেকোনো সহায়তার জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে জেলা প্রশাসন। নিয়ন্ত্রণকক্ষের (+৮৮০ ২৩৩৩৩৫৭৫৪৫) নম্বরে ফোন করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে পারবেন নাগরিকরা। চট্টগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নং ০২৩৩৩৩৫৪৮৪৩।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সন্দীপ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম জেলায় ২৯০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী, ঘূর্ণিঝড়কালীন এবং পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের সেবা দিতে টিমগুলো প্রস্তুত থাকবে। কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। তাছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সব কর্মকর্তা কর্মচারির ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরে নিজস্ব সতর্কতা সংকেত ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়েছে। যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, জেটিতে সীমিত আকারে জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের কার্যক্রম চলছে। যেসব ট্রাক বন্দর ইয়ার্ডে ঢুকে গেছে সেগুলোতে মালামাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে জোয়ার এলে বড় জাহাজ বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়া হবে এবং লাইটার জাহাজ কর্ণফুলী নদীর উপরিভাগ অর্থাৎ শাহ আমানত সেতু এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার (২৫ অক্টোবর) ভোর থেকে সকাল নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব আহমেদ জানান, দুপুর একটায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী আগামীকাল (বুধবার) ভোর থেকে সকাল নাগাদ নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া হামুন আরও শক্তি বৃদ্ধি করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এসময় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন-চার ফুট বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে সন্ধ্যার পর চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।

