মালয়েশিয়ায় অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলেন একজন বাংলাদেশি। ৯ কেজি মেথাফেটামিন মাদক বহনের দায়ে তারা কারাবন্দী ছিলেন ২০১৬ সাল থেকে। মালয়েশিয়ার আপিল বিভাগ তাদের শাস্তি কমিয়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ বেত্রাঘাত নির্ধারণ করেছেন।
২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি আশরাফুল আলম ছাড়াও এই মামলায় অপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন ভারতীয় নাগরিক আরিভাঝাগান মুরুগেসান (৫০) এবং মালয়েশিয়ান নাগরিক কে. দিনাকারান (৫০)।
আদালত জানিয়েছেন, এই শাস্তি তাদের গ্রেফতার হওয়ার দিন ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে উচ্চ আদালতে তাদের অপরাধের রায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে অপরাধীরা আপিল বিভাগে তাদের শাস্তি কমানোর জন্য আবেদন করেন। আপিল বিভাগের বিচারক দাতুক হাধারিয়াহ সৈয়দ ইসমাইল, দাতুক আজমান আব্দুল্লাহ এবং দাতুক এস.এম. কোমাথি সুপ্পিয়াহ শাস্তি কমিয়ে আনার এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত প্রদানের সময়, বিচারপতি হাধারিয়া বলেন, তিনজনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটিতে ত্রুটি রয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে তারা মাদক পাচার করার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আসলে তারা উৎপাদন করতো এগুলো।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের বিচারক প্রসিকিউশনের মামলার শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেননি এবং তাদের সুরক্ষা প্রদানেরও যথাযথ পদক্ষেপগুলো আমল করা হয়নি।
বিচারক হাধারিয়াহ আরো বলেন, মাদকের মামলায় তাদের শাস্তি কমিয়ে আনতে ব্যবস্থা নিয়েছেন আদালত।
২০১৬ সালে দিনাকারন একজন নিম্নজীবি মানুষ, আশরাফুল তখন শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আরিভাঝাগান একজন দিনমজুর। তারা ইতিমধ্যেই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
২০১৬ সালের আগস্টের ১৩ তারিখে সেলানগরের আমপাং এলাকার জালান -৩ এ ৯ কেজি ১৮০ গ্রাম মেথামফেটামিন মাদকসহ আটক করা হয় তাদের। ২০১৯ সালে অভিযোগ প্রমানিত হলে তাদের শাস্তি প্রদান করেন আদালত।
তিন অপরাধীর আইনজীবি আফিফুদ্দিন আহমেদ হাফিফি আদালতের কাছে সাজা কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে নিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছিলেন।

