চট্টগ্রাম নগরে তানহা আক্তার মারিয়া নামের সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় চান্দগাঁও থানার সানোয়ারা আবাসিকের চান্দার বাপের বাড়ি দিদার কলোনি থেকে শিশুর লাশটি উদ্ধার করা হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম মুন্না নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মুন্না কক্সবাজার জেলা সদরের কক্সশাহীর টিকা এলাকার বাসিন্দা।
তানহা লক্ষ্মীরের রামগতি উপজেলার রামদয়াল এলাকার মো. বাকের হোসেনের মেয়ে। ওই এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত সে। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তানহা।
চান্দগাঁও থানার ওসি খাইরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গলার দুই পাশে কালো দাগ আছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটি ডোবা থেকে মুন্নাকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, শিশুটির মা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। আর বাবা রিকশাচালক। বাবা-মা কাজে যাওয়ার পর শিশুটি বাসায় একা ছিল। প্রতিবেশী এক নারী ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। তখন দরজা খুলে এক যুবককে দ্রæত পালাতে দেখেন। বাসায় ঢুকে বিছানার ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়।
তানহার বাবা বাকের হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টায় কর্মস্থলে চলে যায়। পৌনে ৮টার দিকে মেয়েকে বাসায় রেখে বের হয়েছিলাম। রিকশা নিয়ে বের হয়ে মৌলভী পুকুরপাড় এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে প্রতিবেশী এক নারী এসে খবর দেন বাসায় মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে।’
বাকের হোসেনের চাচাত বোন জানান, প্রতিদিন বাকেরের ঘর খোলা থাকে। ঘরের দরজা বন্ধ দেখে দরজার কপাটে ধাক্কা দেন। সাড়া না পেয়ে তিনি ফিরে যান। পরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও দরজায় ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে যায়। এ সময় ভেতর থেকে এক যুবক তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার পিছু নেন স্থানীয় লোকজন। তারা বাসায় ঢুকে দেখেন ওড়না দিয়ে হাত-পা বাঁধা মারিয়ার নিথর দেহ পড়ে আছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, রাকিবুল ইসলাম মুন্না ধর্ষণের পরে তানহাকে হত্যা করে। মুন্না হত্যা করে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল৷ এর আগে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে যায়। এ সময় ভেতর থেকে মুন্না তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার পিছু নেন স্থানীয় লোকজন।
চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক ( এসআই) রিয়াদুস সালেহিন জানান, খবর পেয়ে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার মরদেহ টিনশেডের বাসায় শোয়ানো ছিল। পরনে গেঞ্জি ছিল। শরীর কাঁথায় মোড়ানো ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটি ডোবা থেকে মুন্নাকে আটক করা হয়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

