চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ বক্সে বোমা হামলার মামলার আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবির’ ১৫ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- নব্য জেএমবির স্থানীয় গ্রুপের আমির মো. নোমান খান, স্থানীয় গ্রুপের সামরিক কমান্ডার এবং পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ মো. সেলিম, দাওয়াতি শাখার প্রধান জহির উদ্দিন এবং সদস্য মহিদুল আলম, মঈনউদ্দিন, আবু সাদেক, রহমতউল্লাহ আকিব, মো. আলাউদ্দিন, মো. সাইফুল্লাহ, মো. এমরান, মো. শাহেদ, মো. কাইয়ূম, মুহাম্মদ কায়ছার, মোরশেদুল আলম এবং মুহাম্মদ শাহজাহান। আসামিদের মধ্যে মোরশেদুল আলম ও মুহাম্মদ শাহজাহান পলাতক আছেন। মহিদুল আলম ও মো. শাহেদ জামিনে থাকলেও শুনানিতে হাজির ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি রুবেল পাল বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৬ (২), ৮, ৯, ১০ ও ১২ ধারায় ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। ১৫ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা ১১ জন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে থাকা ২ জনসহ মোট ১৩ জন অভিযোগ গঠনের শুনানিতে হাজির ছিলেন। দুই আসামি এখনও পলাতক।
এর আগে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার টহল পরিদর্শক (টিআই) অনিল বিকাশ চাকমা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় গুহ।
ঘটনার পর তদন্তকারী সংস্থা নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট হামলার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের বিভিন্নধাপে সম্পৃক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। বোমা হামলার তিনমাস পরেই ২০২০ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র এমরান, পলিটেকনিকের ছাত্র আবু ছালেহ এবং দোকানকর্মী সাইফুল্লাহ- এ তিনজনকে গ্রেফতারের পরই কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট হামলার সঙ্গে নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরপর ওই বছরের অক্টোবরে নব্য জেএমবির ওই গ্রুপের দাওয়াতী শাখার প্রধান জহিরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রুপের সামরিক কমান্ডার সেলিমকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বক্সে বোমার হামলার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের পুরো ছক উদঘাটন করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।আড়াই বছর তদন্তের পর ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এর মধ্যে একটি অভিযোগপত্রে ১৫ জনকে আসামি করা হয়, যার বিচার শুরু হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালে।

