চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড় কেটে রাস্তা ও ঘর নির্মাণের অভিযোগে ১৬ ভূমি মালিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় অভিযানে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের সত্যতা পায় জেলা প্রশাসনের টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক।
১৬ ভূমি মালিক হলেন- জাফর আহামদ মজুমদার, মোহাম্মদ হাছান আহাম্মদ কন্ট্রাক্টর, মোহাম্মদ আইয়ুব মিঞ্চা, এস এম নুরুন্নবী, সৈয়দা মাসকুরা আক্তার, মোছাম্মৎ জেবুন্নাহার খানম, মোছাম্মৎ শকিনা আক্তার চৌধূরী, সোহরাব হোসেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ফরিদ মিঞ্চা, আবুল মনসুর, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্দ হামিদ, ডাক্তার শামীমা আকতার এবং মোহাম্মদ সোলায়মান।
এছাড়া বায়নামূলে মালিকানা নিয়ে সড়ক নির্মাণে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আকবর হোসেন খোকন নামে একজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, আকবর হোসেন খোকন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহুরুল হক জসিমের ভাই। তিনি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক। জসিমের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে একাধিক মামলা আছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক জানান, সিডিএ লিংক রোডের পাশে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়াভাবে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করেছেন আকবর হোসেন খোকন নামে এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় কাউন্সিলের ভাই। তাঁর নেতৃত্বে বাকি ১৬ জন পাহাড় কাটায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের সবার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, লিংক রোডের পাশে দৃশ্যমান জায়গায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ করছে একটি চক্র। কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। যারা পাহাড় কেটেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মামুন আহমেদ ও নগর পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

