প্রবীণ আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কামাল উদ্দিন আহাম্মদ মারা গেছেন। দেশ-বিদেশ তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর লালখান বাজারে নিজ বাসায় হৃদেরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রয়াতের নিকটজন দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু জানান, ৮০ বছর বয়সী কামাল উদ্দিন আহাম্মদ হৃদরোগে ভুগছিলেন। বাসায় টেলিভিশন দেখার সময় আকস্মিকভাবে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
কামাল উদ্দিন আহাম্মদের বাড়ি মীরসরাই উপজেলায়। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা কামাল প্রয়াত রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। তার বড় বোন নুরুন্নাহার আঙ্গুর মুক্তিযুদ্ধের সময় সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কামাল উদ্দিন আহাম্মদকে চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দেয়া হয়। পিপি হিসেবে মহানগর দায়রা জজ আদালতে তিনি চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা পরিচালনা করেন, যে মামলাটি নানা নাটকীয়তা পেরিয়ে পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গতি পেয়েছিল এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংস্থার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আসামি হয়েছিলেন।
২০১৪ সালে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণার পরের বছর কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান।
জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানিয়েছেন, জোহরের নামাজের পর আদালত প্রাঙ্গনে কামাল উদ্দিন আহাম্মদের প্রথম দফা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ আসর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে তাকে চৈতন্যগলি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

