সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।বিপুল ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলকে পরাজিত করেছেন তিনি। নৌকা প্রতীকের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১ ভোট। আর তাঁর নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট।মোট ৬৯ হাজার ১২৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আনোয়ারুজ্জামান।
জয়ের প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন,প্রথম কথা হচ্ছে এটা আওয়ামী লীগের বিজয়।দ্বিতীয় কথা হচ্ছে,এটা সিলেটবাসীর বিজয়।সর্বস্তরের মানুষ দলমত-নির্বিশেষে আমাকে আপন করে নিয়েছেন।আমি তাঁদের সন্তান। আমি এই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করব।আমি সিলেটবাসীকে যে কথা দিয়েছি, যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন,সিলেট নগরীর উন্নয়নের জন্য তিনি বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর পরামর্শ নেবেন। আজ ২১ জুন বুধবার সারাদিন শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।রাতে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে ১৯০টি কেন্দ্রের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সাল কাদির।অন্যান্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে,স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ২৯৬৮৮ ভোট।ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ১২৭৯৪ ভোট, জাকের পার্টির মোঃ জহিরুল হক পেয়েছেন ৩৪০৫ ভোট,স্বতন্ত্র আঃ হানিফ পেয়েছেন ৪২৯৬ ভোট,আরেক স্বতন্ত্র সালাহউদ্দিন রিমন পেয়েছেন ২৬৪৮ ভোট। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবারই প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন।তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
আর পেশায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুল জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলেও মেয়র পদে এবারই প্রথম নির্বাচন তাঁর। এবার মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭২ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।৪২ টি ওয়ার্ডে ১৯০টি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ (বুথ) ছিল ১ হাজার ৩৬৭টি। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন।তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬০ জন ও নারী ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৭ জন এবং ৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন।ভোট প্রদানের হার ছিলো ৪৬.৭১ শতাংশ। নির্বাচন অনুষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।