গতকাল ১৩ই জুন মঙ্গলবার কলকাতার প্রায় সকল মিডিয়াতেই গুরুত্বের সাথে পরিবেশিত হওয়া খবরটি ছিলো”প্রতি বছরের মতো এ বছরও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আম উপহার পাঠালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”। আনন্দবাজার লিখেছে সরকারি সূত্রের খবর,মমতাকে ৬০০ কেজি আম পাঠিয়েছেন হাসিনা।
সোমবার ১২ জুন যশোরের বেনাপোল বন্দর-হরিদাসপুরে হয়ে উপহারের আম পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে।প্রতি বছরই আমের মৌসুমে ‘বোন’ মমতাকে উপহার পাঠান হাসিনা।আবার এপার বাংলা থেকেও রসাল আম উপহার যায় ওপার বাংলায়।গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আম পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও ঢাকা থেকে ‘বোন’ মমতার জন্য আসে আম, কখনও আবার পুজোর সময় শেখ হাসিনার উদ্দেশে যায় মমতার উপহার শাড়ি।বর্ষার মৌসুমে পদ্মার ইলিশও আসে ভারতে। ওয়াল লিখেছে,এপারে যেমন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, তেমনই ওপারে রাজশাহীর আম বিখ্যাত।রাজশাহীর কানসাট আমবাজার এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমবাজার।
সেখান থেকে শুধুমাত্র বাংলাদেশের নানা প্রান্তে আম যায় তাই নয়, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান, থাইল্যান্ড সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে আম রফতানি করা হয়।এমনকি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রেও এই কানসাট হয়েই আম পৌঁছায়।ঘটনাচক্রে স্বাধীনতার আগে মালদহ ও রাজশাহী ছিল ব্রিটিশ ভারতের একটি প্রেসিডেন্সি। অর্থাৎ রাজশাহী প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত। দেশভাগের পরে মালদহ থেকে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, আর রাজশাহী চলে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পাকিস্তানের অধীনে।কিন্তু আম দুই বঙ্গকে মিলিয়ে রেখেছে।রাজশাহীতে এখনও প্রায় ৩০০ প্রজাতির আম উৎপন্ন হয়।যদিও সবগুলি সমান পরিমাণে হয় না।বহুল উৎপাদিত আম হল এপারের মতোই ল্যাংড়া ও হিমসাগর।তবে এই দুটি আমেরও অনেক রকম বা ভ্যারাইটি আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেখ হাসিনা এই দুই প্রজাতির আমের কোনটি পাঠিয়েছেন তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে প্রতি বছরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নানা প্রজাতির সুমিষ্ট আম পাঠিয়ে থাকেন। সূত্র:-ওয়াল ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

