গতকাল ২ রা মে মঙ্গলবার পৃথক দুটি অভিযানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ৮ শত পিস ইয়াবা সহ মাসুদ রানা (৩০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ও সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে একই দিন আরেকটি অভিযানে ৮১ কেজি গাঁজা ও বহনকারী মাইক্রোবাস সহ জাহাঙ্গীর আলম(৩১) এবং শামীম (৩০) নামের দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৩।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ ফজলুল হক খাঁন ও উপ-পরিদর্শক মোঃ মাঈনুল ইসলাম শিকদারের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল ২রা মে ফতুল্লা থানাধীন রামারবাগস্থ খাঁন সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সড়কে অবস্থিত ভাই ভাই হোটেলের সামনে থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে অবস্থান করা মাসুদ রানা(৩০) নামের একজনকে আটক করে।পরে তল্লাশি চালিয়ে তার শরীরে বিশেষ কায়দায় রাখা ৮শত পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।আটক মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার সদর থানাধীন দক্ষিণ বিশুরা আদপুরের মৃত বজলু মিস্ত্রীর ছেলে বলে জানিয়েছেন সূত্র।পরবর্তীতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে আটক মাসুদ রানাকে ইয়াবা সহ থানায় প্রেরন করে। অপরদিকে গতকাল ২রা মে গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ৮১ কেজি গাঁজা, বহনকারী মাইক্রোবাস সহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৩।বিষয়টি মিডিয়ার কাছে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ, পিপিএম (সেবা), বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি।
আটক জাহাঙ্গীর আলম (৩১) কুমিল্লার লালমাই থানাধীন উৎসব পাদুকা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব-৩।অন্য আরেক আটককৃত শামীম সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হয়ে পরে জানানো হবে বলে জানান তাঁরা। এ বিষয়ে মিডিয়াকে র্যাব-৩ অধিনায়ক জানান, ধৃত জাহাঙ্গীর একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। মূলত সে মাইক্রো গাড়ীর চালক। সে দীর্ঘদিন যাবৎ মাইক্রোগাড়ী চালনোর আড়ালে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে বড় বড় মাদকের চালান নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্রয় বিক্রয় করে আসছে।সে মাইক্রো গাড়ীতে মাদক বহন ছাড়াও বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে মাদকের চালান বহন করে থাকে। তার মাদক ব্যবসার একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। সে মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেয়।তাঁর বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করে আসছিলো র্যাব-৩।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল তাঁকে আটক করতে সমর্থ হয় র্যাব-৩।উক্ত সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান র্যাব-৩ অধিনায়ক। এদিকে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

