সিইসিকে পরীক্ষা নয়,আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির একটায় দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান। এ দাবি আদায়ে তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নেতারা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। বিএনপি বার বার এ সব কথা বলার পরও আকস্মিক ভাবে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মোঃ আলমগীর বিএনপির কাছে পরীক্ষা দেয়ার কথা জানান। এ বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা গুঞ্জন হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিএনপির উদ্দেশে ইসি আলমগীর বলেন, সবসময় আমাদের আহ্বান থাকবে আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন, আমাদের পরীক্ষা নিন। আমরা পরীক্ষা দিতে সবসময় প্রস্তুত। আপনারা তো আমাদের পরীক্ষাই নিচ্ছেন না। পরীক্ষা না নিয়েই আপনারা কীভাবে বুঝলেন যে আমরা অকৃতকার্য হলাম?
আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচনে বেশির ভাগ দল অংশ গ্রহণ করছেনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব জেলায় সব দলের তো অফিস না-ও থাকতে পারে। ছোট ছোট দলের ওই রকম অফিস নেই। তাদের প্রতিদ্ব্ন্দ্বিতা করার মতো যোগ্য প্রার্থী না-ও থাকতে পারে। সেটা তাদের ব্যাপার। বড় দলগুলো তো আসছে।
তাহলে বিএনপির অফিস থাকার পরেও কেন তারা নির্বাচনে আসছেনা এমন প্রশ্নের জবাবেনির্বাচনকমিশনারবলেন, বিএনপিআসেনিএটি তোতাদের রাজনৈতিক কৌশল। এটিআমাদের ব্যর্থতানয়। তারা কী বলেছে, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ নির্বাচন করেছে, এজন্য আসবনা?
নির্বাচন কমিশন আলগমীরের এ বক্তব্যের বিষয়ে স্লোগান প্রতিবেদক জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেছেন, যেখানে আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে আসছি, সেখানে কোন কমিশন কি বললো তাতে কি আসে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক স্লোগানকে বলেন, নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে নির্বাচনে আসার জন্য আহবান জানাতেই পারে। বিএনপির উচিত কমিশনের সাথে আলাপ আলোচনা করা। তারা তাদের দাবি দাওয়া থাকলে তাও কমিশনকে জানাতে পারেন। নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা যে কোন দলকে নির্বাচনে আসার জন্য আহবান জানাতেই পারে। আমরাও চায় বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করুক।
আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি দেশ গুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ ভুক্ত দেশগুলো। বিগত কয়েক মাস ধরে দেশগুলো রাষ্ট্রদুতগন ও সেসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীওসরকারের বিশেষ দুতগণ বাংলাদেশে দৌড় ঝাপ করে যাচ্ছেন। তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে বারবার বৈঠক করছেন। তাদের কথা শুনছেন। কিন্তু দুই বড় দলের কেউ কারো অবস্থান থেকে সরে আসছেন না। কিন্তু কূটনৈতিকরা নানা প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন।
গত ১৮ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে‘ আকস্মিক’ বৈঠকও করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। নির্বাচন ভবনে সিইসি কার্যালয়ে অনেকটা আকস্মিকভাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকেসিইসি ও চার্লস হোয়াইটলি ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে চার্লস হোয়াইটলি টুইটবার্তায় সিইসি ও তার যৌথ ছবি পোস্ট করে বৈঠকের বিষয়টি জানান।
টুইটারে চার্লস হোয়াইটলি লিখেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন নিয়েও কথা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অনেকটা আকস্মিকভাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। এ বৈঠকে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে থাকতে বলা হয়নি। তারা আরও জানান, চার্লস হোয়াইটলি বেশ কিছু দিন বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করবেন। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে সিইসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশনে এসেছেন।
এর আগের দিন ১৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন চালর্স হোয়াইটলি।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে তিনবার সিইসির সঙ্গে বৈঠক করলেন চার্লস হোয়াইটলি। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারিইইউ’র ১১ সদস্যেরপ্রতিনিধি দল নিয়েসিইসিরসঙ্গে বৈঠককরেছিলেনচার্লস হোয়াইটলি। সেদিন বৈঠকে সিইসির সঙ্গে তিন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষেচার্লস হোয়াইটলি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচক। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের কাজ এবং অগ্রগতিতে প্রযুক্তিগত এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরওআলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তারও আগে গত বছরের জুলাই মাসেও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বিদেশিরা এভাবে হুকহাট করে সিইসির সাথে বৈঠক করছেন, আবার বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতারাও কুটনৈতিকদের সম্মানে নানা আয়োজন করে তারা নির্বাচন তাদের অবস্থানও তুলে ধরছেন। তবে দুইপক্ষকে এখন পর্যন্ত কেউ এক টেবিলে বসাতে পারেনি। দুইপক্ষকে নিয়ে এক সাথে কথা না বলতে পারলে সমাধান আসবে কি করে তাও অনেকের প্রশ্ন।
এদিকে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃআব্দুল হামিদও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, দুই পক্ষকে এক সাথে বৈঠকে বসতে হবে। উভয়কে কিছু কিছু ছাড় দিতে হবে। তবেই তো সমাধান বেরিয়ে আসবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল করছেন,বড় দুই দলকে এক টেলিবে বসানোর দায়িত্ব নিতে হবে কাউকে। তবেই একটা সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। এ জন্য সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসা দরকার। দলমত নির্বিশেষে তারা যদি দুই দলের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান একটা পথ খোলা হতে পারে। যেখানে সব কিছু আলোচনা হতে পারে এবং একটা সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। তাতে আগামী নির্বাচন ও সবার অস্বস্তিও কাটবে।

