বঙ্গবাজারের ধ্বংসস্তূপ থেকে সরানো হয়েছে পোড়া আবর্জনা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন। ইট বিছিয়ে মেরামত করে নতুনভাবে গড়ে ওঠা অস্থায়ী এই মার্কেট এখন দৃশ্যমান। পুড়ে যাওয়া মার্কেটের জায়গায় অস্থায়ীভাবে চৌকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের বসানো হবে। আজ থেকে ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে শুরু করবেন বেচাকেনা। ভ্রাম্যমাণ চৌকি বসিয়ে দোকান বসানো হবে। প্রত্যেক ব্যবসায়ী সাড়ে তিন ফুট ও পাঁচ ফুট পরিমাণ একটা করে দোকান পাবেন।
গতকাল আগুনে পোড়া বঙ্গবাজার মার্কেটে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে বর্জ্য সরানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। নতুন ইট ও বালু দিয়ে সংস্কার করে চৌকি বসানোর মতো ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন নতুন করে ব্যবসা শুরু করার। বঙ্গবাজারে ফুটপাতে বসানো দোকানের পাশাপাশি আশপাশের মার্কেটের দোকানগুলোও খুলেছে।
সব হারানোর পরও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এদিকে সড়কের পাশে দোকান সাজিয়ে বসতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল আনছেন বিক্রেতারা।
আশপাশে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসেছেন অনেকে। আংশিকভাবে পোড়া এনেক্সকো টাওয়ার, বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেট ও বঙ্গ হোমিও মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি বঙ্গবাজারে ক্রেতা ফেরানোর জন্যও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে হবে। তা না হলে এখানকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতি জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ২ হাজার ৯৬১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর তালিকা দেয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীদেরকে আজ দুপুর ১২টা থেকে মার্কেটের জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসানো হবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র এসে ব্যবসায়ীদেরকে বসানোর ব্যবস্থা করবেন।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তহবিলে সোমবার পর্যন্ত ২ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা পড়েছে উল্লেখ করে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, এই তহবিলে পুরো টাকা সরকারের কাছে যাবে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটা বড় অনুদান আসবে। সব মিলিয়ে এই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি উদ্যোগেই বণ্টন করা হবে।
এর আগে সোমবার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক ব্যবসায়ী সাড়ে তিন ফুট ও পাঁচ ফুট পরিমাণ একটা করে দোকান পাবে। নির্দিষ্ট আয়তনের চৌকি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যাদের দু’টি কিংবা পাঁচটি দোকান ছিল তারাও একটি করে দোকান পাবেন। অস্থায়ীভাবে বসানো দোকান উদ্বোধনের জন্য মেয়র মহোদয়কে আমরা অনুরোধ করেছি।
মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চৌকি বিছিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতে বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডস্থল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে এবং করপোরেশন গঠিত তদন্ত কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে দোকানের জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই কাজের অংশ হিসেবে বঙ্গবাজারের ১ দশমিক ৭৯ একর জায়গাজুড়ে বালু ও ইট বিছানো হবে।
ইতিমধ্যে সেখানে ৪০ গাড়ি বালু ফেলা এবং প্রায় ৯০ হাজার ইট বিছানো হয়েছে। পুরো এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইট বিছানো এবং প্রায় ১৫০ গাড়ি বালু ফেলা হবে জানা গেছে। আজকের মধ্যে পুরো এলাকায় বালু ফেলা ও ইট বিছানোর লক্ষ্যে করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কাজ করছেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

