চট্টগ্রাম নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাগান বিলাস এবং গোধুলী বেলা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জেলা ক্রীড়া সংস্থার জায়গা উদ্ধার করতে রোববার দুপুর নাগাদ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পরিচালিত অভিযানে আউটার স্টেডিয়ামে গড়ে ওঠা বাগান বিলাস এবং গোধুলী বেলা সহ সব স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। খেলার মাঠকে আক্ষরিক অর্থে মাঠে পরিণত করে আউটার স্টেডিয়ামের ঐতিহ্য ফেরাতে জেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর নু এ মং মারমার নেতৃত্বে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে নগর পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন।
চট্টগ্রামের খেলাধুলার ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বহু কৃতী খেলোয়াড় সৃষ্টির সূতিকাগার চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম অবৈধ দখলদারদের করুণ শিকারে পরিণত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। খেলার মাঠ অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। ওই সময় আউটার স্টেডিয়ামে অবৈধ দখলদারদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা একমত হন। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা আউটার স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আউটার স্টেডিয়ামের সীমানা নির্ধারণ করা হবে। এরপর গত ২ মার্চ জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সহকারী কমিশনার ভূমিকে সাথে নিয়ে আরো একদফা আউটার স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান। সেখানে আউটার স্টেডিয়ামের সীমানা চিহ্নিত করে লাল দাগ দিয়ে দেয়া হয়। তখন বলা হয়, ওই লাল দাগের ভেতরে থাকা সব স্থাপনাই অবৈধ। তিনি লাল দাগের ভেতরে পড়া অবৈধ সব স্থাপনাকে ১৬ মার্চের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। ১৭ তারিখ সরকারি ছুটি থাকবে। ১৮ মার্চ যদি কোনও অবৈধ স্থাপনা থাকে তাহলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় একদিন বাড়তি সময় দিয়ে গতকাল দুপুর থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে সময় বেধে দেওয়া হলেও কোনও স্থাপনা বা মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের মালামাল সরাতে শুরু করেন। দুপুরে মাঠের উত্তর–পূর্ব কোণ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। এরপর মাঠের পূর্ব পাশে থাকা বাগান বিলাস সহ অন্যান্য সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে শিমু পার্কের বিপরীত দিকে থাকা গোধুলী বেলা সহ অন্য সব স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে স্থাপনাগুলোতে ‘মহামান্য হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে’ বলে সাইনবোর্ড টানানো দেখা গেছে। কিন্তু অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর নু এ মং মারমা লো প্রশাসনের কাছে এ ধরনের কোনও তথ্য প্রমাণ নেই বলে জানান। অভিযানকালে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে খেলার মাঠে শুধু খেলা হবে, আর কোনও কিছু হবে না। খেলার মাঠ মুক্ত থাকবে। অবৈধ দখলদারদের দাপট চিরতরে বন্ধ করে আউটার স্টেডিয়ামকে খেলাধুলার সূতিকাগারে পরিণত করা হবে।
তিনি বলেন, এই আউটার স্টেডিয়াম জাতীয় মানের অনেক খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। তাই আউটার স্টেডিয়ামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে আউটার স্টেডিয়ামের হারানো ঐতিহ্য উদ্ধারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজকের উচ্ছেদ অভিযান তার প্রথম ধাপ। তিনি বলেন, এই মাঠ আবার খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

