সন্দ্বীপে ৭ দিন ব্যাপী বই মেলা ও সাংস্কুতিক উৎসব শুরু হয়েছিলো গত ২২ ফেব্রুয়ারী।শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারী। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কন্ঠ শিসাক-এর উদ্যোগে প্রথম বারের মতো ৭ দিন ব্যাপি একুশে বই মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধনী দিন থেকে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। বিকাল ৩ টায় শুরু হয়ে রাত ১০ থেকে ১১ টা অবধী মানুষ বাড়ি ফিরতেই চাইতোনা। কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পর অনেক মানসিকক প্রশান্তি ও আবারো আশার আকাংখা নিয়ে বাড়ি ফিরতো।
দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক কাল পরে কয়েকদিন পূর্বে মাসব্যাপী ভ্রাম্যমান বইমেলার পর বৃহৎ পরিবেশে শুরু হয়েছিলো এই বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের।
সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ মাঠে ২২ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটায় এ মেলার উদ্বোধন করেন সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মিশনের সভাপতিত্বে মেলার প্রধান আলোচক ছিলেন বাসস এর নগর সম্পাদক কানাই চক্রবর্তী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথ সন্দ্বীপ কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া বেগম, যুক্তরাষ্ট্র ব্রুকলিন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুল , উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলাউদ্দিন বেদন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল ইসলাম, সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির।এর পর প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামের অনেক তারকা শিল্পীর আবৃত্তি গান, নাটক ইত্যাদিতে মুখরিত হয়ে উঠতো সাউথ সন্দ্বীপ কলেজের বিশাল মাঠ।২৬ টি বইয়ের স্টলে দেখা গেছে সাহিত্যপ্রেমী ক্রেতাদের বই কিনতে। প্রতিদিন মেলায় স্থানীয় লেখকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি মোস্তফা হায়দার, কবি বাদল রায় স্বাধীন, ছড়াকার সাজিদ মোহন, ভোরের পাখীর কর্নধার ইসমাঈল হোসেন মনি, সাংবাদিক ওমর ফয়সাল, সাইফ রাব্বি সহ বিভিন্ন আলোকিত জন। বই চিন্তা,সমকাল সু-হৃদ,ভোরের পাখী সাহিত্য মেলার স্টলে নজরুল নাঈম ও আব্দুর রহমানের তৎপরতায় বিক্রি হতো সন্দ্বীপের লেখকদের প্রচুর বই।
বই মেলায় সন্দ্বীপের আলোকিত মানুষ মনিরুল হুদা বাবন, কবি মোস্তফা হায়দার, সংগঠক আব্দুর রহমান ঈমন অনুভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন বড় বড় জেলা শহরের বই মেলায়ও এতো লোকের উপস্থিতি ঘটেনা। সে হিসাবে সন্দ্বীপের মতো জায়গায় বই মেলায় মানুষ যেভাবে প্রানের উচ্ছাসে মেতে উঠেছে তাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহ আয়োজকদের কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়। সন্দ্বীপে এমন বৃহৎ পরিসরে বই মেলা আমাদের মতো লেখকদের জন্য একটি চমৎকার মাইলফলক।এর দেখাদেখি আরো অনেকে আয়োজন করবে নিঃসন্দেহে।
তবে হঠাৎ করে ২ দিন পুর্বে একটি সফল মেলার সমাপ্তি ঘোষনাতে সোস্যাল মিডিয়া সহ সংস্কৃতি অঙ্গনের নেতৃবৃন্দদের বিভিন্ন প্রকার হতাশা ও রহস্যঘেরা মন্তব্য পোস্ট করতে দেখা গেছে, তবে মেলা কর্তৃপক্ষের সু-নির্দ্দিষ্ট কোন বক্তব্য না জানানোতে মূল সমস্যা মেলা কর্তৃপক্ষের না কোন অন্তদ্বন্দ তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা।

