পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচির পুলিশ প্রধানের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ জঙ্গিসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানের পর শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশপ্রধানের কার্যালয় জঙ্গিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র জঙ্গি দল আচমকা করাচির শীর্ষ পুলিশ প্রধানের দফতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঢুকেই তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও।
কর্মকর্তারা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করলে কমপক্ষে তিন জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেন। বাকি দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় রেঞ্জারস (সীমান্তরক্ষী) ও পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮ জন।
করাচি দক্ষিণের ডিআইজি ইরফান বালোচ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জিও নিউজকে বলেন, পুলিশের পোশাক পরেই হামলাকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন।
নভেম্বরে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবানের এক মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর দেশটিতে জঙ্গি হামলার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গত ৩১ জানুয়ারি পেশোয়ারের একটি মসজিদে নামাজ চলাকালীন আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ১০০ জনের। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন পুলিশকর্মী।

